ইলিয়াসের ডকুমেন্টারি: নির্দোষ দাবি করে পোস্ট সোহেল তাজের

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৪১ পিএম

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন।
বুধবার রাতে ‘শ্বাসরুদ্ধকর ৩৩ ঘণ্টা ও পরের ১৬ বছর’ শিরোনামে ওই ডকুমেন্টারিটি ইলিয়াস তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেন। যা ইতোমধ্যে মিলিয়নের বেশি মানুষ দেখেছেন।
প্রকাশিত ওই ডকুমেন্টারিতে সাংবাদিক ইলিয়াস পিলখানার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ইলিয়াস।
যদিও সোহেল তাজ প্রথম থেকেই পিলখানার ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এই ঘটনার ঘটার আগে তিনি লন্ডনে ছিলেন। তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক ইলিয়াসের প্রকাশিত ডকুমেন্টারির একটি ছবি ফেসবুকে পোস্টে করে আবারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সোহেল তাজ।
ওই পোস্টে তিনি ডকুমেন্টারিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. হাসান নাসিরের একটি ছবি শেয়ার করে বলেন, ‘স্বাধীনতা/মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বিদেশে অবস্থানরত একজন তথাকথিত ‘ইনভেস্টিগেটিভ সাংবাদিক’ বারবার আমাকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়াবার জন্য কোনো প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া কথা বিভিন্নভাবে প্রচার করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই’।
তিনি বলেন, ‘ব্রি. জে. হাসান নাসিরকে অনুরোধ করবো আপনি তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করুন এবং কমিশনকে তা জানান। আমি নব গঠিত তদন্ত কমিশনকে আমার পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সোহেল তাজ বলেছেন, ‘আমি কোথায় ছিলাম, কেন এবং আমার কী ভূমিকা ছিল আমি বহুবার ব্যাখ্যা দিয়েছি- আমার ইন্টারভিউগুলো দেখে নিয়েন। ভাঙা রেকর্ডের মত বারবার বলতে পারব না’।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই বলছেন আমি কেন এত উত্তেজিত হচ্ছি- আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে, আপনি যদি নিরপরাধ হোন এবং আপনার বিরুদ্ধে এইরকম একটি সিরিয়াস এবং জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া অভিযোগ করা হয়, আপনি কী করতেন’?
এদিকে সোহেল তাজের এই পোস্টে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ইলিয়াস। ওই মন্তব্যে তিনি সোহেল তাজের উদ্দেশে লেখেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলেছি, আপনি ঢাকা থেকে ডিপার্চার নিলেও বাইরের কোনো দেশের অ্যারাইভাল নেননি। অতএব আপনার পাসপোর্টের সিল দেখান যেখানে লন্ডনের অ্যারাইভাল আছে৷ তাহলে বুঝবো আপনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় বিদেশে অবস্থান করেছেন’।
ইলিয়াসের মন্তব্যের জবাবে পালটা মন্তব্য করতে দেখা যায় সোহেল তাজকে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমার পোস্ট এ কমেন্ট করার জন্য। আশা করি পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো আছো। আমার পোস্টটা আবার পড়ার জন্য অনুরোধ করছি; আমি স্পষ্টভাবে বলেছি যে, তদন্ত কমিশনকে আমি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। তাই তুমি তোমার সব প্রমাণাদি তাদের কাছে দিয়ে দাও, তারপর তারা যা করার করবে’।
তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি তো ভোলো করেই জানো ব্যক্তিগত ইনফরমেশন পাবলিকলি শেয়ার করা সমীচীন না। তুমি একটু কষ্ট করে আমার ইন্টারভিউগুলো আবার দেখো- আমি কোথায় ছিলাম, কেন গিয়েছিলাম এবং সেখান থেকে কী করার চেষ্টা করেছিলাম জানতে পারবা। তোমার ইনফরমেশন ভুল। আমার মনে হয় তোমাকে কেউ বোকা বানাতে চাচ্ছে’।