প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার প্রতিবেদন
স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনসহ শতাধিক সুপারিশ

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৩২ এএম

ফাইল ছবি
প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাসংক্রান্ত ৮টি বিষয়ে শতাধিক প্রধান ও আনুষঙ্গিক সুপারিশ দিয়েছে এ সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি।
সোমবার
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদষ্টোর কাছে হস্তান্তর করেছে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক
শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটি। প্রতিবেদনে প্রাথমিকসহ সমগ্র শিক্ষা খাতের সংস্কার
ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ (এডুকেশন
কনসালটেটিভ কাউন্সিল) গঠিত হতে পারে। পরে তা স্থায়ী শিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, বিভিন্ন অংশীগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের ১১টি
জেলার ১২টি উপজেলায় সরেজমিন পরিদর্শন করে কমিটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে। এগুলোকে আশু,
মধ্যমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় হিসাবে ভাগ করা হয়েছে।
দেশের
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্কারে গঠিত পরামর্শক
কমিটি। একই সঙ্গে ‘সহকারী শিক্ষক' পদ বিলুপ্ত
করে প্রবেশন পর্যায়ে ‘শিক্ষক’ পদে দ্বাদশ গ্রেডে
বেতন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে
দেওয়া এবং পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির
পক্ষ থেকে।
সর্বজনীন
প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মানসম্মত বিদ্যালয় শিক্ষার খাত পরিকল্পনা
এবং স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য
হিসাবে শিশুদের বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে। শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষাকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতির
ব্যাপারে নির্দষ্টি আশু পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশে
শিশুদের বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বাংলা শুধু একটি বিষয় নয়, এটি অন্য সব বিষয়ে প্রবেশের চাবিকাঠি। গণিতে মৌলিক
দক্ষতা অর্জিত না হলে শিক্ষার্থীরা শিখনে ক্রমাগত পিছিয়ে থাকবে। এজন্য প্রতিদিন এ দুটি
বিষয়ে ৬০ থেকে ৭৫ মিনিট করে শিক্ষণ-শিখন সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শিখন সময় বৃদ্ধির
জন্য সব বিদ্যালয়কে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এক শিফটের স্কুলে পরিণত করা প্রয়োজন। পঞ্চম,
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমে (পিইডিপি৫) অন্তত ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে এবং দশ বছরের
মধ্যে সব বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করা যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত
অনূর্ধ্ব ১:৩০ নিশ্চিত করা দরকার। পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শ্রেণির ভেতরে ও বাইরে নিরাময়মূলক
সহায়তা দিতে হবে। এজন্য স্থানীয়ভাবে প্যারা-টিচার (শিক্ষা-সহায়ক) নিয়োগ দেওয়া যেতে
পারে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা এ ধরনের পরীক্ষার পরিবর্তে এনএসএ (ন্যাশনাল
স্টুডেন্ট অ্যাসেসম্যান্ট)-এর আদলে (তবে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য) মেৌলিক দক্ষতা জরিপের
মাধ্যমে প্রতি বিদ্যালয়কে মান অনুযায়ী সবুজ-হলুদ-লালে চিহ্নিত করা হবে। প্রধান শিক্ষক
ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে প্রতি বিদ্যালয়কে সবুজে রূপান্তরিত
করা। যত দ্রুত সম্ভব মিড-ডে-মিল প্রবর্তন, খাতা-কলম-ব্যাগ ইত্যাদি সামগ্রী বিতরণ এবং
ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত অতি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বর্ধিত হারে অর্থ সাহায্য
প্রদান করা যেতে পারে। দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা নিরোধের লক্ষ্যে অভিযোগ
জানানোর জন্য হটলাইন স্থাপন করা যেতে পারে।
প্রতিবেদন
হস্তান্তরের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদষ্টো বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
এবং প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমদসহ
কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।