
প্রিন্ট: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১০:৩৬ এএম
ফরীদির পর একুশে পদক পাচ্ছেন সুবর্ণা মুস্তাফা

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম

সুবর্ণা মুস্তাফা। ফাইল ছবি
আরও পড়ুন
অভিনয় জগতে বিশেষ অবদান রাখায় এবারের একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছে দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। গত বছর এ পুরস্কার পেয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদি (মরণোত্তর)।
সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনেতা প্রথমে হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই দশক সংসার করার পর ২০০৮ সালে ফরীদির সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে হুমায়ুন ফরিদী মারা যান।
এবারের একুশের পদক পাচ্ছেন যারা
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর ২১ গুণীজনকে একুশে পদক-২০১৯ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক হালিমা খাতুন, অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও অধ্যাপক মনোয়ার ইসলাম। শিল্পকলায় (সঙ্গীত) সুবীর নন্দী, মরহুম আজম খান ও খায়রুল আনাম শাকিল। শিল্পকলা অভিনয়ে লাকী ইনাম, সুবর্ণ মোস্তফা ও লিয়াকত আলী লাকী।
শিল্পকলার আলোকচিত্রতে সাইদা খানম। শিল্পকলার চারুকলায় জামাল উদ্দিন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। গবেষণায় ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড. মাহবুবুল হক। শিক্ষায় ডক্টর প্রণব কুমার বড়ুয়া। ভাষা ও সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।
সুবর্ণা মুস্তাফার সফলতা গল্প
প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।
বাংলাদেশের নাট্যজগতে সুবর্ণা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। আশির দশকে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে। সুবর্ণা মঞ্চ এবং চলচ্চিত্রেও প্রচুর অভিনয় করেছেন।
১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন। তবে তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। তবে মূলধারার কিছু সিনেমাতেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। দর্শকদের মাঝে রয়েছে তার ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, চেহারায় বাঙালি রমনীর শাশ্বত সৌন্দর্যের মৌন রূপ স্পষ্ট এবং স্মিত যৌন আবেদন ও রহস্যময় ঘরানার সৌন্দর্য তার সামগ্রিক সৌন্দর্যকে প্রায় ক্ল্যাসিক রূপ দিয়েছে।
১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান এ গুণী অভিনেত্রী।