
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০১:১৪ এএম
‘দেশের রাজনীতিতে সিভিল সোসাইটি ও এনজিওর প্রভাব বেড়েছে’

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম

বর্তমানে যে নীতি চলছে, তাকে আর রাজনীতি বলা যায় না; বরং নতুন কোনো শব্দ দিয়ে এটাকে চিহ্নিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমি সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।
তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে রাজনীতি কেবল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, বরং সিভিল সোসাইটি এবং এনজিওগুলোর প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে। এনজিওরা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করলেও সিভিল সোসাইটি মূলত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে এবং রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি হিসেবে কাজ করে। বর্তমান সরকারও সিভিল সোসাইটি দ্বারা প্রভাবিত। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে, যা পুনর্গঠিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শুক্রবার (২১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি আয়োজিত ‘রাজনীতি কী এবং কেন?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলা একাডেমি সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসন এসেছে প্রধানত রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতার কারণে। মিলিটারি কেবল ক্ষমতার লোভে শাসন নিয়েছে— এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার সংকট ও বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে গেছে। রাজনীতি আর জনসেবার মাধ্যম নেই, বরং পার্লামেন্ট সদস্য ও মন্ত্রী হয়ে সম্পদ গঠনের সুযোগে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছর এবং তার আগে আরও ৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। দীর্ঘ এই শাসনামলে তিনি বিভিন্নভাবে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।আওয়ামী লীগ সীমাহীন সম্পদের মালিক হয়েছে। এটি আর রাজনীতি নেই, বরং অন্যকিছু হয়ে গেছে। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান যে নীতিতে চলতেন, তার দলে সেই নীতির অস্তিত্বও আর নেই।’
আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘সাধারণ মানুষের রাজনীতির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং তারা একে ঘৃণা ও ভয়ের চোখে দেখেন। রাজনৈতিক নেতাদের তারা সম্মান করেন না, বরং ভয়ে সালাম দেন। অথচ সম্মান ও ভয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের পর আজ পর্যন্ত আমরা একজন প্রকৃত জাতীয় নেতাও পাইনি। নেতা হতে হলে যে গুণাবলীর দরকার, তা আমাদের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অনুপস্থিত। এখন রাজনীতি যেন কেবল ক্ষমতা ও সম্পদ লাভের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়।’
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক এমএ আলীম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য বিজন হাওলাদার। এছাড়াও বক্তব্য দেন ইউসেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী, শামীম ইশতিয়াক চৌধুরী প্রমুখ।