
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪২ এএম
গাজায় আরও তীব্র আগ্রাসন ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম

মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবটি হামাস গ্রহণ করলেও উল্টো গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার এক ঘোষণায় তিনি বলেছেন, গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করবেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করবেন। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও আল-জাজিরার।
এদিন ইসরাইলি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের সমন্বয়ই বন্দিদের উদ্ধারের একমাত্র উপায়।
যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ট্রাম্প পরিকল্পনা, অর্থাৎ স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। এটি আমাদের কৌশল এবং আমরা যেকোনো সময় এটি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
আরব দেশগুলোর বিরোধিতা
এদিকে গত ৪ মার্চ জরুরি আরব সম্মেলনে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫৩ বিলিয়ন ডলারের একটি পাঁচ বছরব্যাপী পরিকল্পনা গৃহীত হয়। যাতে গাজার অধিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে।তারা বরং ট্রাম্পের বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনাকেই সমর্থন করে এবং তা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরান, মিশর, সৌদি আরব, জর্ডানসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরাইলের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি
এদিকে জানুয়ারিতে হওয়া ৪২ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় আবার বোমা হামলা চালানো শুরু করে। অস্ত্রবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরাইল অব্যাহত এই হামলার মাধ্যমে গাজায় গত ১৩ দিনে অন্তত ৯৫০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও ২,০০০ জনকে আহত করেছে।
যা নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় ৬২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
পাশাপাশি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICJ) গণহত্যার মামলাও চলমান।
এসব সত্ত্বেও ইসরাইল হামাসকে নির্মূল, ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও উচ্ছেদ এবং গোটা গাজা উপত্যকাকে ধ্বংস ও জবরদখল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
ঘটনাপ্রবাহ: হামাস ইসরাইল যুদ্ধ
আরও পড়ুন