
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
রিলস-শর্টস ভিডিও দেখলে শরীরে যেসব মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১০:২৮ এএম

মোবাইলেই মগ্ন এখনকার প্রজন্ম। মোবাইলেই আটকে থাকে চোখ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে 'রিল' দেখা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হোক কিংবা খেতে বসে বা সফরের সময়ে ‘রিল’ বা ভিডিও দেখার অভ্যাস আজকাল অধিকাংশেরই। বিশেষ করে শিশুরাও এর বাইরে নয়। আর এই অভ্যাসের হাত ধরেই ঘনাচ্ছে বিপদ।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সারাক্ষণ মোবাইলে স্ক্রল করে ‘রিল’ দেখার অভ্যাস বা ডুম-স্ক্রলিংয়ের নেশা সর্বনাশা হয়ে দেখা দিচ্ছে। তা যেমন একদিকে হাইপারটেনশনের কারণ হয়ে উঠছে, ঠিক তেমনই হৃদরোগের ঝুঁকিও বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
‘আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি’ এবং ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেশন’-এর তথ্য বলছে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটানা ‘রিল’ দেখে যাওয়া বা ভিডিও গেম খেলার অভ্যাস থাকলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ে। কারণ স্ক্রিনের দিকে একটানা চোখ ও ‘রিল’ দেখে অহেতুক উত্তেজনা হৃৎস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে মেলাটোনিন নামক হরমোনের তারতম্য দেখা দেয়।
এই হরমোনই ‘স্লিপ সাইকেল’ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং একযোগে চাপ পড়ে শরীর আর মনে। এই অভ্যাসের প্রভাব পড়তে পারে আপনার স্মৃতিশক্তির ওপরেও। পাশাপাশি মোবাইলের নীল আলো রেটিনার ক্ষতি করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপরেও প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টানা ৩-৪ ঘণ্টা মোবাইলে ভিডিও দেখে বা সামাজিক মাধ্যমের পাতায় স্ক্রল করে কাটান, তাদের হৃদরোগ ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বেশি। যারা ৪ ঘণ্টারও বেশি মোবাইলের ‘রিল’ দেখতেই থাকেন, তাদের ভবিষ্যতে হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাবে।
১৯৯৮ সালে জার্মানির একটি গবেষণাতেও দাবি করা হয়েছিল, মোবাইলের ব্যবহার বেশি হলে রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে। এখনকার সময়ে এ বিষয়টিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা বলছেন, মোবাইল থেকে বেরোনো তড়িৎচুম্বকীয় রশ্মি মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে একদিকে যেমন স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়, তেমনই অন্যদিকে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে থাকে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়তে থাকে। ফলে মনের ওপর চাপও বাড়ে। মানসিক চাপ ক্রনিক হয়ে গেলে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেড়ে যায়।
এর থেকে পরিত্রাণের উপায় আমাদের বের করতে হবে। আর সেই উপায় হচ্ছে— আমাদের বইপড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। এমনটাই মত গবেষকদের। ফোনমুখী মনকে বশে রাখতে হলে নানা ধরনের বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। সারাক্ষণ বসে বা শুয়ে মোবাইল না দেখে, শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে ভালো হয়। রাতে শুয়ে মোবাইলে স্ক্রল না করে মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারলে মন অনেক শান্ত থাকবে। অস্থিরতা কমবে এবং মনঃসংযোগ বাড়বে।
ছোটরা এখন ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করেই বেশি আনন্দ অনুভব করছে। এমনকি মন খারাপ হলে নেটদুনিয়াতেই সুখ খুঁজে নিতে চাইছে। সব কিছুর সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগৎ। এর থেকে অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে। তাই ডিজিটাল আসক্তি কাটাতে পুরোনো শখগুলোকেই ফিরিয়ে আনতে হবে। বইপড়া, খেলাধুলা করা, বাগান করা, রান্না করা অথবা গান শেখা, নাচ, আবৃত্তি— এগুলোর মাধ্যমেই ফোনের নেশা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথটা অনেক সহজ হবে।