
প্রিন্ট: ০১ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৬ এএম
সন্তানকে মোবাইল ফোন থেকে চোখ সরাতে যা করবেন

যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম

ফাইল ছবি
আরও পড়ুন
কয়েকজন শিশুকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে দেখা যায়। যেন খুবই একাগ্রচিত্তে বই পড়ছে।— এমন বইপড়ার অভ্যাস আর খুব একটা দেখা যায় না। একেবারে নেই বললেই চলে। পড়ার বইয়ের বাইরে নেশা একটাই— মোবাইল ফোন। বিশেষ করে এখন যারা দশের নিচে, তাদের চোখ আটকে থাকে টিভি, মোবাইল, আইপ্যাড ও ল্যাপটপে। সেখানে সর্বক্ষণ চলছে গেম খেলা বা ভিডিও দেখা। অডিও-ভিজ্যুয়ালের নেশা যতই বেড়েছে, ততই পাল্লা দিয়ে কমেছে বইপড়ার আগ্রহ। তাই এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে বইপড়ার আগ্রহ হঠাৎ করে ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। কিন্তু ছোটরা যাতে বই থেকে একেবারে মুখ না ফেরায়, তার জন্য চেষ্টা করতে হবে অভিভাবকদেরই।
আর এ নিয়ম পালন করতে আপনাকে চার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তবেই আপনার সন্তানের পড়ার আগ্রহ বাড়বে। জেনে নিন কীভাবে আপনার শিশুসন্তানকে বইপড়ায় আগ্রহী করে গড়ে তুলবেন।
১. সন্তানকে সময় বেঁধে দিন
বইপড়াতে চাইলে আগে স্ক্রিনটাইম বেঁধে দিতে হবে। তবে গোড়াতেই মোবাইল নিয়ে নিলে শিশু আরও বেশি জেদ করবে। তাই দিনের কিছুটা সময় বেঁধে দিন। এ বিষয়ে মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেছেন, সারা দিনে এক ঘণ্টার মতো সময় টিভি দেখা বা মোবাইলে গেম খেলার জন্য দিতে পারেন। তার বেশি নয়। আর মোবাইলে শিশু কী ধরনের গেম খেলছে বা ভিডিও দেখছে তাতেও নজর রাখতে হবে। বাকি সময়টা পড়ার বইয়ের বাইরে বিভিন্ন গল্পের বই পড়ানোর অভ্যাস করুন।
এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে গল্প শোনার ধৈর্য কম। অভিভাবকরাও সেভাবে সময় দিতে পারেন না। কিন্তু যদি শিশুর মধ্যে পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে হয়, তা হলে ছোট থেকেই গল্প শোনার অভ্যাস তৈরি করুন। খাওয়ানোর সময়ে হাতে মোবাইল দেবেন না, গল্প বলুন। নানা রকম গল্প শোনার অভ্যাস তৈরি হলে শিশুর পড়ার আগ্রহও তৈরি হবে।
২. বাবা-মাকেও পড়তে হবে বই
শিশু যদি দেখে বাবা কিংবা মা মোবাইলে স্ক্রল না করে সময় পেলেই বই, ম্যাগাজিন ও খবরের কাগজের পাতা উল্টোচ্ছেন, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই ওর মধ্যেও পড়ার ঝোঁক তৈরি হবে। কারণ ছোটরা বড়দেরই অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তাই আগে মা কিংবা বাবাকে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাড়িতেও তেমন পরিবেশ যেন থাকে। তা হলেই আপনার সন্তানের মধ্যে সেটি বুনে দেওয়া সহজ হবে।
৩. লাইব্রেরির সঙ্গে পরিচয়
ছুটির দিনে আপনার সন্তানকে নিয়ে শপিংমল কিংবা রেস্তোরাঁয় যাচ্ছেন ঠিক আছে, তবে সময় করে লাইব্রেরিতেও নিয়ে যান। ধারেকাছে লাইব্রেরি না থাকলে, বইয়ের দোকানেও নিয়ে যেতে পারেন। নিজে হাতে করে বই নেড়েচেড়ে দেখলে, সেখানেই বসে কিছুটা পড়তে পারলে বইপড়ার নেশা আপনা থেকেই তৈরি হবে।
৪. বেছে বই কিনুন
ঠিক বয়সে ঠিক বই বেছে না দিলে পড়ার অভ্যাস তৈরি তো হবেই না, বরং বিরক্তি আসতে পারে। কেবল রূপকথা বা ছবি দেওয়া বই নয়, বরং ছোট থেকেই বাস্তব জগতের সঙ্গে একটু একটু করে পরিচয় করান। গদ্য, পদ্য ও ছোটদের গল্পসমগ্রের মতো বিভিন্ন সাহিত্যিকের বই একটু একটু করে পড়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন। গোড়ার দিকে নিজেকেও ওর সঙ্গে পড়তে হবে। যে বয়সটায় আপনার সন্তান নিজে পড়তে পারবে না, তখন মা-বাবাকেই গল্পগুলো পড়ে শোনাতে হবে। রিডিং পড়া নয়, এতে থাকবে অনেকখানি অভিনয়। গল্পের চরিত্রগুলো বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। তবেই গল্প শোনার ও নিজে পড়ার আগ্রহ তৈরি হবে।