
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৭ এএম
ঈদুল ফিতরের পরের দুদিন কি রোজা রাখা যাবে?

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম

প্রশ্ন: ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় দিন রোজা রাখা কি জায়েজ আছে?
উত্তর: ঈদুল ফিতর শুধু একদিন। সে দিনটি হলো- শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। পক্ষান্তরে, মানুষের মাঝে যে ধারণা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, ‘ঈদুল ফিতর তিনদিন’ এটি শুধুমাত্র সামাজিক প্রথা ছাড়া আর কিছু নয়; শরীয়তে এমন কোনো নির্দেশনা নেই।
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন: ‘ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা শীর্ষক পরিচ্ছেদ’, এরপর তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন (হাদিস নং-১৯৯২) যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আজহার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
এ দলিলের ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর শুধু একদিন মাত্র; যেদিন রোজা রাখা হারাম। তাই শাওয়াল মাসের দ্বিতীয় দিন ও তৃতীয় দিন রোজা রাখা হারাম নয়। তাই সে দুটি দিনে রমজানের কাজা রোজা রাখা কিংবা নফল রোজা রাখা জায়েজ।
রোজা রাখা নিষিদ্ধ ৫দিন
১. ঈদুল ফিতরের দিন, ২. ঈদুল আজহার দিন (জিলহজ মাসের ১০ তারিখ), ৩. জিলহজ মাসের ১১ তারিখ, ৪. জিলহজ মাসের ১২ তারিখ, ৫। জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ। শেষের ৩টি দিনকে বলা হয়, তাশরিকের দিন বা আইয়ামে তাশরিক।
কেন নিষিদ্ধ
দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ। কারণ ঈদের দিন হলো আনন্দের দিন। এ-ব্যাপারে সকল আলেম ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতর ও ইদুল আজহার দিন রোজা রাখতে বারণ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ১,৯৯২; মুসলিম, হাদিস: ৮২৭)
তাশরিকের দিনগুলোতে রোজা রাখাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, ঈদুল আজহার পরের তিনদিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ্জ)। রাসুল (সা.) বলেছেন, তাশরিকের দিনগুলো পানাহার ও আল্লাহ্কে স্মরণ করার দিন। (মুসলিম, হাদিস: ১১৪১)
অন্য হাদিসে আছে, এ-দিনগুলোতে রাসুল (সা.) আমাদের রোজা না-রাখার নির্দেশ দিতেন এবং রোজা রাখতে নিষেধ করতেন। ইমাম মালেক (রহ.) বলেন, সেই দিনগুলো হলো তাশরিকের দিন। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৪১৮)
এ ছাড়া বছরের দিনগুলোতে যে কোনো রোজা রাখা যাবে।