Logo
Logo
×

ইসলাম ও জীবন

চিকিৎসকরা যেভাবে দাঈ হয়ে উঠবেন, জানালেন আজহারী

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম

চিকিৎসকরা যেভাবে দাঈ হয়ে উঠবেন, জানালেন আজহারী

ছবি: সংগৃহীত

জননন্দিত ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, ‘দাওয়া ইলাল্লাহ মূলত আমরা মৌখিকভাবে দিয়ে থাকি। তবে মৌখিক দাওয়াতের চেয়ে প্রাকটিক্যাল দাওয়াত অনেক বেশি কার্যকরী। 

তিনি বলেন, আমরা যখন তাফসিরে কথা বলি, মসজিদে খুতবা দেই সেটা থেকে মানুষ কিন্তু শিখে। তবে আমরা যদি আমাদের আচার-আচরণ দিয়ে মানুষকে কোনো একটা বার্তা দিতে পারি সেটা তাদের মনে বেশি প্রভাব ফেলবে। 

রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

আজহারী বলেন, আমি মনে করি, প্রাকটিক্যাল দাওয়াতের সুযোগটা আপনাদের মতো ডাক্তারদের বেশি। ধরেন, আমি যদি কুরআনের একটা আয়াত বলি তাহলে লোকজন মনে করবে- ওনি তো হুজুর মানুষ আয়াত তো বলবেনই। কিন্তু যদি কোনো একজন ডাক্তার কুরআনের আয়াত বলে তাহলে তার প্রভাব অনেক বেশি পড়বে। 

একটি উদাহরণ টেনে আজহারী বলেন, ‘আবার ধরেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমরা সবাই পড়ি। এখানে ক্রেডিট নেওয়ার কিছু নাই। কিন্তু যখন একজন ডাক্তার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে পড়বেন তখন সেটা মানুষ ভিন্নভাবে নেবে। তখন লোকজন বলবে- দেখো, এতো ব্যস্ততার পড়েও তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন। তিনি তো চাইলে এসব রোগীও দেখতে পারতেন। তো এভাবে চিকিৎসকদের কিন্তু দাওয়াতের কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি।

দাওয়াতের মধ্যমপন্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ইসলাম শিখবো-শিখাবো, বুঝবো- বুঝাবো; এ সব ক্ষেত্রেই আমাদেরকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে আমরা যেন চরমপন্থায় না যাই। আবার অতিরিক্ত লিবারেলও যেন না হয়ে যাই। আমরা যেন একটা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করি।

‘এজন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যে নবী আপনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকুন প্রজ্ঞার সঙ্গে, সুন্দর সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে। এবং কখন যদি তর্কবিতর্কেও জড়াতে হয় তাহলে সেখানেও উত্তম পন্থা অবলম্বন করুন’।

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘চিকিৎসা পেশা অনেক বড় একটি সম্মানজনক পেশা। কেননা, আপনারা জনগণকে যেভাবে সরাসরি সেবা দিতে পারেন সেটা অন্য কেউ এমনভাবে পারেন না। আপনারা আহতদের সেবা দিতে পারেন, আগুনে পোড়া রোগীসহ হাজারো রোগের সেবা আপনারা দিতে পারেন। আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তার মনটা কিন্তু অনেক নরম থাকে। তার মধ্যে একটা অসহায়ত্ব কাজ করে। ওইরকম একটা অবস্থায় তারা আপনাদের কাছে সেবা নিতে যান। ফলে আপনাদের কিন্তু দাওয়াতের কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি। আর এসব ক্ষেত্রে মৌখিক দাওয়াতের চেয়ে প্রাকটিক্যাল দাওয়াত বেশি কার্যকরী।

আজহারী আরও বলেন, হজরত ওমর ফারুক (রা.) তার ছাত্রদেরকে প্রায়ই বলতেন, ‘তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যাও এমন অবস্থায় যেন তোমরা চুপচাপ’। তখন ছাত্ররা বলতেন, দাওয়াতের কাজ করতে বলতেছেন আবারও চুপচাপও থাকতে বলতেছেন! তাহলে কীভাবে দাওয়াত দেব। তখন ওমর (রা.) বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের আখলাক দিয়ে দাওয়াত দাও’।

হজরত আয়েশার (রা.)  কাছে যখন জানতে চাওয়া হতো রাসুল (সা.)-এর আচরণ কেমন ছিল? তখন তিনি বলতেন, ‘কুরআনই ছিল রাসুল (রা.) চরিত্র।তিনি যখন মদিনার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন মনে হতো যেন জীবন্ত একটা কুরআন হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে’।

সবশেষ তিনি বলেন, তাহলে এসব হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি- মৌখিক দাওয়াতের চেয়েও প্রাকটিক্যাল দাওয়াত অনেক বেশি কার্যকর।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম