
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৯ এএম
ভারতে ধর্ষণের দায়ে ধর্মপ্রচারকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১৫ পিএম

ভারতে ধর্ষণের দায়ে স্বঘোষিত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক বাজিন্দর সিংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ২০১৮ সালে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। খবর বিবিসির।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, পাঞ্জাবের নিজ বাড়িতে বাজিন্দর তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে। পরে তাকে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে।
বাজিন্দর সিংয়ের লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। জনপ্রিয় এ ধর্মগুরু বিভিন্ন অসুস্থ মানুষের মাথায় হাত রেখে মন্ত্র পড়ে জটিল রোগ সারানোর দাবি করতেন।
পাঞ্জাবে একটি চার্চ নির্মাণ করেছেন বাজিন্দর, যার নাম রাখা হয়েছিল, প্রদেশটিতে থাকা বৃহৎ বেসরকারি চার্চ সেটি। বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকাও বাজিন্দরের অনুসারী বলে কথিত রয়েছে। ধর্ষণের দায়ে এ অভিযুক্তের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় তার চার্চ রয়েছে।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে বেশ জনপ্রিয় বাজিন্দর। ইউটিউবে তার ৩০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার ভারতের একটি আদালত বাজিন্দর সিংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ভুক্তভোগীর আইনজীবী অনিল সাগর আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এটিকে অনুকরণীয় শাস্তি বলে অভিহিত করেছেন।
সাগর বলেন, ‘নিজের অবস্থান ব্যবহার করে অনেকে দরিদ্র ও দুর্বলকে ধর্ষণ করে। অনেক সময় দুর্বলেরা মুখ খুলতে চাই না। তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এ রায়।’
রায় নিয়ে কোনো কথা বলেননি বাজিন্দর সিংয়ের আইনজীবী। তবে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাজিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে অন্তত দুই নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। সেসব মামলারও তদন্ত করছে পুলিশ। ওই দুই নারীর মামলার পরদিন আরেক নারী বাজিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থনার সময় লাঞ্ছিতের অভিযোগ আনে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন বাজিন্দর সিং।
গত বছরের জানুয়ারিতে বাজিন্দর সিংয়ের চার্চগুলো আর্থিক তদন্তের মুখোমুখি হয়। ভারতের আয়কর বিভাগ তার প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি চার্চে তদন্ত করেছিল।
হরিয়ানা রাজ্যে হিন্দু পরিবারে জন্ম বাজিন্দরের। ১৫ বছর আগে জেলে থাকা অবস্থায় খ্রিস্টান ধর্ম বেছে নেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, হত্যা মামলায় তখন জেলে ছিলেন বাজিন্দর।