
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
বৈরুতে ইসরাইলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ কর্মকর্তা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:১৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপশহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবারের এ হামলায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে একজন ইরান সমর্থিত দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। খবর রয়টার্সের।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের হামলায় হিজবুল্লার যে কর্মকর্তা মারা গেছে তার নাম হাসান বেদাইর। তিনি ইরানের কুদস ফোর্সেরও সদস্য ছিলেন।
দখলদার দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরাইলের সাধারণ জনগণের ওপর যে হামলা চালিয়েছে তাতে সহযোগিতা করেছিলেন হাসান বেদাইর।
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, হিজবুল্লার ওই কর্মকর্তার জন্যই এ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় একজন মহিলাসহ চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, সবশেষ পাঁচ দিনের মধ্যে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত উপশহরে দ্বিতীয় বারের মতো বিমান হামলা চালাল ইসরাইল। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ল। কারণ তাদের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের উপশহরে ইসরাইলি হামলায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ, দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর চুক্তি অমান্য করে ইসরাইল গাজায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে।
হিজবুল্লার আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম মুসাউই বলেছেন, ‘ইসরাইলি আক্রমণ পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরে নিয়ে গেছে।’ সম্প্রচার মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননকে এর সমাধান খুঁজতে সর্বোচ্চ স্তরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর কার্যক্রম আমাদের জন্য হুমকি। আমরা আশা করি, লেবানন তার ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নির্মূলে পদক্ষেপ নেবে।’
গাজা আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে দখলদার ইসরাইল। তাদের হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কয়েক হাজার যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান নেতা হাসান নাসরাল্লাহও। এছাড়া দখলদার বাহিনীর হামলায় হিজবুল্লার অস্ত্রাগারও ধ্বংস হয়েছে।
ইসরাইলের দাবি, লেবানন থেকে তাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তবে এ দাবি অস্বীকার করে আসছে গোষ্ঠীটি।
লেবাননে অবস্থান করা রয়টার্সের এক সংবাদ দাতা জানান, মঙ্গলবার সকালের দিকে চালানো হামলায় একটি বহুতল ভবনের উপরের তিনটি ফ্লোর ধ্বংস হয়ে গেছে। উপরের ফ্লোরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় তা দেখলেই বুঝা যায়। হামলার পর সেই ভবনের নিচে অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।