
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৩ পিএম
‘সংসদে বলতে দিচ্ছে না, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্পিকার’, বিস্ফোরক রাহুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ০৬:১০ পিএম

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংসদে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করলেন কংগ্রেসনেতা ও সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়াটি ‘অগণতান্ত্রিকভাবে’ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মূল বিষয়গুলো উত্থাপনের জন্য তার বারবার অনুরোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বুধবার সংসদের বাইরে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানি না কী হচ্ছে... আমি তাকে (স্পিকারকে) অনুরোধ করেছিলাম আমাকে কথা বলতে দেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি পালিয়ে যান এবং আমাকে কথা বলতে দেননি। এটা সংসদ চালানোর পথ নয়’।
সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল জানান, তিনি মহা কুম্ভমেলা এবং বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান ইস্যু নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বারবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গণতন্ত্রের মন্দিরে জায়গা নেই বিরোধীদের! সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়েই এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী। তার দাবি, গত ৭-৮ দিন তাকে সংসদে বলতে দেওয়া হয়নি। যখনই স্পিকারের কাছে বলতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন, তিনি পালিয়ে গেছেন।
তার ভাষ্য, আমি কিছুই করিনি, চুপচাপ বসে রইলাম। তবুও যখনই আমি উঠে দাঁড়াই, আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়। এখানে গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ সংসদে কুম্ভমেলা নিয়ে বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিন রাহুল বেকারত্ব এবং কুম্ভমেলা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, সেদিন থেকে আর বিরোধী দলনেতাকে লোকসভায় বলার অনুমতি দেননি স্পিকার।
বুধবার রায়বেরেলির সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সংসদে বিরোধীদের বলতে দেওয়ার একটা রীতি আছে। আমিও স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম আমাকে বলতে দিতে। কিন্তু উনি পালিয়ে গেলেন’।
এদিকে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাহুল গান্ধীকে সংসদের মর্যাদা বজায় রাখতে সদস্যরা যে কার্যপ্রণালী বিধি পালন করবেন বলে আশা করা হয়, তা অনুসরণ করতে বলেছেন। স্পিকারের এই পর্যবেক্ষণের কারণ কী ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
স্পিকার বলেন, সদস্যরা এমনভাবে আচরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা হাউসের উচ্চ মান এবং মর্যাদা বজায় রাখে।
স্পিকার বলেন, বেশ কয়েকটি উদাহরণ আমার নজরে এসেছে, যেখানে সদস্যদের আচরণ উচ্চ মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, ‘এই সংসদে বাবা-মেয়ে, মা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী সদস্য ছিলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে, আমি আশা করি বিরোধী দলনেতা ৩৪৯ বিধি অনুসারে নিজেকে পরিচালনা করবেন, যা বিধানসভার সদস্যদের দ্বারা পালন করা বিধি সম্পর্কিত।
বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা নিয়ম মেনে আচরণ করবেন এটাই প্রত্যাশিত।
তবে রাহুলের কথায়, ‘এভাবে সংসদ চালানো যায় না। এটা অগণতান্ত্রিক। স্পিকার স্রেফ পালিয়ে গেলেন। উনি আমার সম্পর্কে এমন কিছু বললেন, যার কোনো প্রমাণ নেই’।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী কুম্ভ মেলা নিয়ে বললেন। আমি বেকারত্ব নিয়ে বলতে চাইলাম, কিন্তু সময় দেওয়া হলো না। গত ৭-৮ দিন আমাকে বলতে দেওয়া হয়নি। সংসদে বিরোধীদের জন্য কোনো জায়গাই নেই। সংসদ যেন শুধুই সরকারের’।
রাহুলের অভিযোগের পর ৭০ জন কংগ্রেস সংসদ সদস্য স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। রাহুলকে কেনো বলতে দেওয়া হচ্ছে না, সেটা নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে রীতিমতো ক্ষোভপ্রকাশ করে এসেছেন কে সি বেণুগোপাল, গৌরব গগৈরা।
অবশ্য ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। ২০২৪ লোকসভার আগেও একসঙ্গে শতাধিক সংসদ সদস্যকে সাসপেন্ড করার অভিযোগ উঠেছিল ওম বিড়লার বিরুদ্ধে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস