Logo
Logo
×

শেষ পাতা

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতা ফারুক হত্যা

দুজনের যাবজ্জীবন সাবেক এমপিসহ ১০ জন খালাস

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুজনের যাবজ্জীবন সাবেক এমপিসহ ১০ জন খালাস

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মাহমুদুল হাসান এ রায় দেন। এরা হলেন মোহাম্মদ আলী ও কবির হোসেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানা তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ীক নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১০ জনকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলীকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। তারা আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী দলীয় সাবেক সংসদ-সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার নাম বের হয়ে আসে। এরপর চার ভাই আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রাহমান খান রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তিন বছর হাজতে থাকার পর জামিন লাভ করেন। ৫ আগস্টের পর তিনি আবার আত্মগোপনে চলে যান। অপর দুই ভাই ২০১৪ সাল থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। বিচার চলাকালে দুই আসামি আনিছুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ সমির কারাগারে মারা যান। গত ২৬ জানুয়ারি ফারুক হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (অতিরিক্ত পিপি) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, জেরা, কয়েকজন আসামি ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতকে শোনানো হয়। আদালতের বিচারক রোববার আসামি মোহাম্মদ আলী এবং কবির হোসেনকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড এবং সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিনভাইসহ ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাদীপক্ষ ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মামলার রায়ে খালাস পেয়ে সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম