Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

সবাইকে সতর্ক করলেন সেনাপ্রধান

কাদা ছোড়াছুড়ি করলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনের কারণ নিজেদের হানাহানি * ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্রি, ফেয়ার ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের প্রত্যাশা * পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নষ্ট না করার আহ্বান

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাদা ছোড়াছুড়ি করলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে

ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে-আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম। নইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি-মারামারি।’ মঙ্গলবার ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে মহাখালীর রাওয়া (রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) হেলমেট হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।

২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর ‘পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী শহিদ অফিসারদের স্মরণে’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে রাওয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস ঘোষণা করে।

দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অরগানাইজেশনের নামোল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন-যদি এসব অরগানাইজেশনগুলোকে আন্ডারমাইন্ড করে আপনারা মনে করেন যে, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, এটা হবে না। সেটা সম্ভব নয়। আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন-নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান এবং বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বক্তব্যে সেনাপ্রধান আরও বলেন, আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটি নিতে চাই। আই হ্যাড এনাফ লাস্ট সেভেন-এইট মান্থস, আই হ্যাড এনাফ। আমি চাই, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসব।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দেশে একটা ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এর আগে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, অবশ্যই সরকার সেদিকে হেল্প করবে। আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি, কমপ্লিটলি অ্যাগ্রিড উইথ মি। দেওয়ার শুড বি ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন, অ্যান্ড দ্যাট ইলেকশন শুড বি উইথইন ডিসেম্বর, অর ক্লোজ টু দ্যাট। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে, ১৮ মাসের মধ্যে একটা ইলেকশন। আমার মনে হয় যে, সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এ দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন উনি। উনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। উনি যেন সফল হতে পারেন, সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করব। আমরা একসঙ্গে ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাব।

বক্তব্যের শুরুতের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নষ্ট না করার আহ্বান জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, আজকে (২৫ ফেব্রুয়ারি) একটা বেদনাবিধুর দিবস। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫৭ জন চৌকশ সেনা অফিসার এবং শুধু তাই নয়, তাদের কিছু কিছু পরিবারের সদস্যদের আমরা হারিয়েছি। এখানে আসার সময় এই ছবিগুলো আমি দেখছিলাম। এই ছবিগুলো আপনারা অনেকে দেখেছেন। কিন্তু এগুলো আমার সব চাক্ষুষ দেখা। আমি একটা চাক্ষুষ সাক্ষী এসব বর্বরতার। তিনি আরও বলেন, একটা জিনিস আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেননি। সম্পূর্ণটাই তদানীন্তন বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত। ফুলস্টপ। এখানে কোনো ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ (যদি ও কিন্তু) নেই। এখানে যদি ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ আনেন, এই যে বিচারিক কার্যক্রম এতদিন ধরে হয়েছে, ১৬ বছর ধরে, ১৭ বছর ধরে যারা জেলে আছে, যারা কনভিকটেড, সেই বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এই জিনিসটা আমাদের খুব পরিষ্কার করে মনে রাখা প্রয়োজন। এই বিচারিক প্রক্রিয়া নষ্ট করবেন না। যেসব সদস্য শাস্তি পেয়েছে, তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

সেনাপ্রধান বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা এর মধ্যে উপস্থিত ছিল কিনা, ইনভলভ ছিল কিনা, বাইরের কোনো শক্তি এর মধ্যে ইনভলভ ছিল কিনা, সেটার জন্য কমিশন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান এখানে (এই অনুষ্ঠানে) আছেন। উনি এটা বের করবেন এবং আপনাদের জানাবেন। তিনি বলেন, বটমলাইন হচ্ছে যে, আমাদের এই চৌকশ সেনাসদস্য, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তদানীন্তন বিডিআর সদস্যদের গুলিতে। আমরা নিজেরা এসব জিনিস নিয়ে অনেক ভিন্নমত পোষণ করছি কেউ কেউ। এই জিনিসটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি, সেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তিনি আরও বলেন, আজকে আমি যে উপদেশ দিয়ে যাব, তা যদি গ্রহণ করেন তাহলে আপনারা লাভবান হবেন। আমরা নিজেরা ভেদাভেদ সৃষ্টি না করি। আমরা নিজেরা ইউনাইটেড থাকি। আমাদের নিজেদের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, কোনো ব্যত্যয় থেকে থাকে, কোনো ক্ষোভ-অভিযোগ থেকে থাকে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব। সেটার জন্য ডানে-বায়ে দৌড়িয়ে নিজের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। এটা আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে নিজেদের হানাহানি : সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একটা জরুরি বিষয় আপনাদের সঙ্গে আমি শেয়ার করি, দেশের এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণটা হচ্ছে, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, তারা (অপরাধীরা) খুব ভালোভাবেই জানে যে, এই সময়ে যদি এসব অপরাধ করা যায়, তাহলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে, আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান : দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আসেন, আমরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি না করে দেশ-জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারি সেদিকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু দিন শেষে যেন সবাই দেশ এবং জাতির দিকে খেয়াল করে আমরা যেন এক থাকতে পারি। তাহলে এই দেশটা উন্নত হবে, এই দেশটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে। না হলে আমরা আরও সমস্যার মধ্যে পড়ে যাব। বিশ্বাস করেন, উই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হেড, ওই দিকে আমরা যেতে চাই না।

পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই আন্ডারমাইন্ড নয় : পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই-এসব বাহিনী অতীতে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, (তারা) খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজও করেছে। আজকে যে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে, এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনাসদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই অরগানাইজেশনগুলোকে অসামরিক-সামরিক সবাই মিলে, এই অরগানাইজেশনগুলোকে ইফেক্টিভ রেখেছে, সেজন্য আজকে সুন্দর, এতদিন ধরে আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যদি অপরাধ করে থাকে, সেটার শাস্তি হবে। অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। না হলে এই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটা বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজটা করব, এসব অরগানাইজেশনগুলো যেন আন্ডারমাইন্ড না হয়।

পুলিশ বাহিনীকে এতদিনে কার্যকর করতে না পারার পেছনের কারণ উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। একটা বিশাল বড় কারণ হচ্ছে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, অনেকে জেলে। র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড। বিভিন্ন দোষারোপ, গুম, খুন ইত্যাদির তদন্ত চলছে। অবশ্যই তদন্ত হবে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনভাবে কাজটা করতে হবে যেন এই অরগানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এই অরগানাইজেশনগুলোকে যদি আন্ডারমাইন্ড করে আপনারা মনে করেন যে, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, এটা হবে না। সেটা সম্ভব নয়। আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর নয়, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, দেশে দুই লাখ পুলিশ আছে, বিজিবি আছে, র‌্যাব আছে, আনসার-ভিডিপি আছে। আমার (সেনাবাহিনীর) আছে ৩০ হাজার সৈন্য। এই যে একটা বিরাট ভয়েড, আমি এই ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে কীভাবে এটা পূরণ করব? ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে, আরও ৩০ হাজার আসে, এটা দিয়ে আমরা দিন-রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখানে যেসব উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে, সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। এটা আমাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারড। আমরা এইগুলো তৈরি করেছি। এই বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তিশৃঙ্খলা আসবে না। এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে : সামরিক বাহিনীর প্রতি অনেকে অকারণে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, একটা কমন জিনিস দেখতে পাচ্ছি, সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারও কারও, কী কারণে তা আজ পর্যন্ত আমি খুঁজে পাইনি। আমরা হচ্ছি একমাত্র ফোর্স, যেটা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নেভি, এয়ারফোর্স অল উই অল। আমাদের সাহায্য করেন। আমাদের আক্রমণ কইরেন না, আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। তিনি বলেন, আমাদের উপদেশ দেন, আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই এবং দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, আসেন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাই। এখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা বাস করবে। তাদের জন্য এমন কোনো ... রেখে না যাই, যেখানে হানাহানি-কাটাকাটি থাকবে। তাহলে আমাদের পরের প্রজন্ম এদেশে থাকতে পারবে না।

সামরিক বাহিনী টিকে আছে ডিসিপ্লিনে : সেনাপ্রধান বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব বাহিনী, সব অরগানাইজেশন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু সেনাবাহিনী টিকে আছে, নৌবাহিনী টিকে আছে, বিমানবাহিনী টিকে আছে। কেন? কারণ ডিসিপ্লিন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের পরিষ্কার করে দিচ্ছি, ডিসিপ্লিন ফোর্সকে ডিসিপ্লিন থাকতে দেন।

বঞ্চিত সেনাসদস্যদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কিছু কিছু (সেনাবাহিনীর) সদস্যের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন তারা অযাচিতভাবে শাস্তি পেয়েছেন। সেজন্য আমি একটি বোর্ড করে দিয়েছি। সেখানে একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সদস্য। প্রথম ধাপে ৫১ জন সদস্যের ব্যাপারে সুপারিশ নিয়ে এসেছে। সেই সুপারিশের অধিকাংশ আমি গ্রহণ করেছি, তারও অনেক বেশি আমি দিয়েছি। নেভি (নৌবাহিনৗ) ও এয়ারফোর্সও (বিমানবাহিনী) এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমার স্ট্যান্ডপয়েন্ট হচ্ছে, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে সেটার কোনো ছাড় হবে না, বিন্দুমাত্র ছাড় নেই।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, আমি আশা করব, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে, দেশপ্রেমিক হিসাবে দেশের জন্য কাজ করব। আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করব, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার প্রাণহানির ঘটনা যেন না ঘটে এবং নিরীহ মানুষ যেন কখনো নির্যাতিত না হন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনা, কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। শুধু বাংলাদেশের বিচারেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে কোথাও একসঙ্গে এত অফিসার মারা যাননি। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ কারণে হয় না। কোনো ষড়যন্ত্র ছাড়া, কোনো পরিকল্পনা ছাড়া অথবা ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে যা আমি সঠিক জানি না, কোনো এক কারণে হতে পারে। এটা আমাদের মনে অত্যন্ত গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যে ক্ষত ভোলার নয়। কিছু ঘটনা, কিছু স্মৃতি মানুষ চেষ্টা করেও ভুলতে পারে না। আমি মনে করি এটা সেই ধরনের একটি ঘটনা। তিনি বলেন, আমি মনে করি সশস্ত্র বাহিনী এখন সঠিকপথে চলছে। আমাদের সঠিক নেতৃত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার, সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে শহিদ সেনাদের স্মৃতিচারণে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম