ডেঞ্জার জোন তিনশ ফুট
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়াতে হবে

সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

যান্ত্রিক কোলাহল থেকে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি পেতে অনেকেই বিকাল-সন্ধ্যা-রাতে ঘুরতে যান ‘তিনশ ফুট’ নামে পরিচিত রাজধানীর প্রশস্ততম সড়ক পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায়। রাতের মায়াবী দৃশ্যে বিমোহিত হতে সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত আনাগোনা থাকে দর্শনার্থীদের। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি এ সময় নানা দুষ্টচক্রের তৎপরতাও চলে। এদের কারণে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার এলাকাটি এখন পরিণত হয়েছে অপরাধের অভয়ারণ্যে। শুক্রবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-ছিনতাই, ডাকাতি, সড়ক দুর্ঘটনা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ানোয় ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এই তিনশ ফুট সড়ক। বেসামাল তরুণ-তরুণীরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে এ এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৭৪ জন, যাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। খুনের পর লাশ ফেলে দেওয়ার নিরাপদ স্থানেও পরিণত হয়েছে এলাকাটি। সব মিলিয়ে তিনশ ফুট সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুজোন বা ডেঞ্জার জোনে।
অভিযোগ আছে, এ সড়কে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে উঠতি তরুণ-তরুণীদের কার ও মোটরসাইকেল রেসিং, গাড়িতে বসেই চলে মাদক সেবন। বছরখানেক আগে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে বাইকের রেস খেলা এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালনা বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারও তা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, তিনশ ফুট সড়কজুড়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট থাকলেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না উচ্চগতিজনিত দুর্ঘটনা। অপরাধীদেরও বাগে আনা যাচ্ছে না। এলাকাটিতে ঘুরতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানাবিধ দুর্ভোগ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা। এলাকাবাসীও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। কারও কারও অভিযোগ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায় অপরাধের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে।
এমন অবস্থায় এ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর নজরদারি। একইসঙ্গে টহল জোরদারে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করাও জরুরি। উচ্ছৃঙ্খলতা ও মাদকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে স্পিড ক্যামেরা বসিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। নজরদারির সুবিধার্থে পুরো সড়ক ও এর আশপাশে বসাতে হবে সিসি ক্যামেরা। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই। অনৈতিক কার্যকলাপসহ অপরাধের লাগাম টানতে না পারলে এর দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরই বর্তাবে। পূর্বাচলের দৃষ্টিনন্দন তিনশ ফুট সড়ক ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।