Logo
Logo
×

খেলা

স্পিনকে যেভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়েছিল ওয়ার্ন-মুরালির ‘সর্বকালের সেরা’ দ্বৈরথ

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৪১ পিএম

স্পিনকে যেভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়েছিল ওয়ার্ন-মুরালির ‘সর্বকালের সেরা’ দ্বৈরথ

ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক লড়াই দেখা গেছে, কিন্তু শেন ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো দ্বৈরথ আদৌ কি এসেছে? বিষয়টা তর্কসাপেক্ষ বটে। দুই মহাতারকা নিজেদের ক্যারিয়ারে স্পিন বোলিংকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা আজও আলোচনায় উঠে আসে বারে বারে।

১৯৯২ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্নের। তার চার বছর পর, ১৯৯৬ সালে অভিষেক ঘটে শ্রীলঙ্কার অফ-স্পিন জাদুকর মুরালিধরনের। দুজনই একের পর এক রেকর্ড গড়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন, স্পিন বোলিং শুধুই সহায়ক ভূমিকার জন্য নয়, বরং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।  

১৯৯৯ সালে যখন শেন ওয়ার্ন বিশ্বকাপ জিতলেন এবং ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন, তখন মুরালিধরনও নিজের জাত চেনাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পায় ২০০০ সালের দিকে, যখন ক্রিকেট বিশ্ব আলোচনা করতে শুরু করে—কে সেরা স্পিনার?  

২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শেন ওয়ার্ন, যা তাকে প্রথম স্পিনার হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করতে সাহায্য করে। তবে ২০০৭ সালে মুরালিধরন তাকে টপকে যান, টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন এবং ২০০৮ সালে ৭০০ উইকেট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে আসেন।  

মুরালিধরনের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১০ সালে, যখন তিনি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র বোলার হিসেবে ৮০০ উইকেট শিকার করেন। গলে ভারতের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে প্রজ্ঞান ওঝাকে আউট করে তিনি নতুন ইতিহাস গড়েন।  

ওয়ার্ন অবশ্য ২০০৭ সালেই অবসর নেন, ১৪৫ টেস্টে ৭০৮ উইকেট নিয়ে। তবে মুরালিধরন তার পথচলা চালিয়ে যান এবং ১৩৩ টেস্টে ৮০০ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন। 

দুই কিংবদন্তির মধ্যে পার্থক্য ছিল তাদের বোলিং স্টাইল ও চ্যালেঞ্জে। ওয়ার্ন ছিলেন লেগ-স্পিনের শিল্পী, তার ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ১৯৯৩ সালে মাইক গ্যাটিংকে আউট করা ডেলিভারিটি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। অন্যদিকে, মুরালিধরনের রহস্যময় ‘দুসরা’ ছিল তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যা বহু ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করেছে।  

দুজনের বোলিংয়ের ধরন, শক্তির জায়গা ছিল আলাদা। তবে দুজনের বোলিং একটা জায়গায় ছিল একই রকম। দুই দলের পেস আক্রমণে তারার মেলা বসতো তখন। এর মাঝেও অবশ্য ওয়ার্ন-মুরালি দুজনই আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন, অধিনায়কদের ভরসার নাম হয়ে উঠেছিলেন। স্পিন যে নেহায়েতই ওভাররেট আয়ত্বে রাখার অস্ত্র নয়, প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ারও হাতিয়ার, তা নতুন করে জানান দিয়েছিলেন দুজন মিলে।

তবে মাঠের দ্বৈরথ যেমনই হোক, তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ওয়ার্ন নিজেও বলেছেন, মুরালিধরন ছিলেন ‘অসাধারণ প্রতিভা’। অন্যদিকে, মুরালিধরন সবসময় ওয়ার্নকে ‘স্পিন বোলিংয়ের আদর্শ’ হিসেবে দেখেছেন।  

মাঠে অসামান্য সব পারফর্ম্যান্স, আর মাঠের বাইরে দুজনের এমন শ্রদ্ধার সম্পর্ক এই দ্বৈরথকে স্মরণীয় করে রেখেছে। বহু বছর পরও তাই আলোচনায় ফিরে ফিরে আসে তাদের এই লড়াই।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম