‘ঢাবির আধিপত্যর’ অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে আরও দুজনের পদত্যাগ

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:১৭ পিএম

সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন আরও দুজন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া দুজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে নিজ নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করে তারা এ ঘোষণা দেন। কমিটিতে ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক আধিপত্যের প্রতিবাদে তারা পদত্যাগ করেছে বলে ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়।
পদত্যাগ করা শিক্ষার্থীরা হলেন— সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী সজীব
ও যুগ্ম সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন আম্মার। তারা দুজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন।
গত বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ
করে নতুন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারকে আহ্বায়ক ও জাহিদ আহসানকে সদস্য সচিব করে প্রাথমিকভাবে
ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। আর বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে
সংবাদ সম্মেলনে ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ নাম্বার যুগ্ম
আহ্বায়ক হিসেবে মেহেদী সজীব এবং এক নাম্বার যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে সালাহউদ্দিন আম্মারের
নাম ঘোষণা করা হয়।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে মেহেদী সজীব লেখেন,‘আজ বাংলাদেশ
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আমার নাম বলা হয়েছে।
গতকাল রাতেও এ নিয়ে আমি আমার স্ট্যান্ড ক্লিয়ার করেছি। এখনও বলছি। নতুন বন্দোবস্তের
নামে ঢাকা ও ঢাবিকেন্দ্রিক নয়া ফ্যাসিবাদী মনোভাবের যে উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার
প্রতিবাদেই আমি এই প্লাটফর্মে থাকতে রাজি না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার ইচ্ছা ব্যতীত এ দলে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য
নিন্দা জানাচ্ছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই আমি আজ মেহেদী সজীব
হিসাবে গড়ে উঠতে পেরেছি। আমার স্পষ্ট বার্তা হলো, ঢাকা ও ঢাবিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী
মনোভাব থেকে যতদিন না এ দলের অংশীজনরা বেরিয়ে আসতে পারবে, বিকেন্দ্রীকরণের দিকে মনোনিবেশ
করবে, ততদিন অবধি আমি তাদের সঙ্গে কোনো ধরণের রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় যাব না। আর তাই আমি
উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’
পদত্যাগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘নতুন ছাত্র রাজনৈতিক দলটা
সার্বজনীন হতে পারত। কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থানের কারণে দলটার প্রতি শিক্ষার্থীরা
বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শিক্ষার্থীরা।
সেই শিক্ষার্থীদের পালসের বাহিরে গিয়ে আমার রাজনীতি করা সম্ভব না।’
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের পালসটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাবি শিক্ষার্থীরা চাচ্ছে না, এ ঢাবি আধিপত্যের পক্ষে থাকতে। তাই আমরাও চাচ্ছি না।
শিক্ষার্থীরা না চাইলে আমরা কিছুই না।’
এর আগে বৃহস্পতিবার কমিটি ঘোষণার দিনই একজন পদত্যাগ করেন।