
প্রিন্ট: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৩ এএম
পরমাণু শক্তি কমিশনের ২৫০০ কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন অনিশ্চিত

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৬:১০ পিএম

আরও পড়ুন
গত ৯ মার্চ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মার্চ মাসের (চলতি মাস) বেতন-ভাতা এবং অবসরপ্রাপ্তদের মার্চ মাসের অবসর ভাতা ২৩ মার্চের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে এ নির্দেশনা মানা হয়নি।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন একটি বিশেষায়িত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কমিশনের আওতাধীন ৪২টি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে পরমাণুবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট গবেষণা, শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে পরিচালনা করছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও এই কমিশনের তত্ত্বাবধানে পাবনা জেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে।
কমিশনের প্রায় ২৫০০ বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মার্চ এর বেতন পাননি। কারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কমিশনের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৩য় ও ৪র্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ না করে মার্চ ০২, ২০২৫ খ্রি. তারিখে স্মারক নংঃ ৩৯.০০.০০০০.০০০.০০৩.০০.০০০৮.২২.৬৫৪ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে iBAS++ system-এ Personal Ledger (PL) Account-এর মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করে।
বাপশক আইন ২০১৭-এর ধারা ২০ (২)-এ বর্ণিত “কমিশনের তহবিলের অর্থ কমিশনের নামে কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে”। iBAS++ সিস্টেমে PL Account- এ কমিশনের তহবিল জমা রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা হবে বাপশক আইন ২০১৭-এর ধারা ২০(২) এর সুস্পস্ট ব্যত্যয়।
কমিশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর, কোবাল্ট ৬০ গামা ইরেডিয়েটর, সাইক্লোট্রন, ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফ্যাসিলিটির মতো তেজস্ক্রিয় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। স্পর্শকাতর এ সকল স্থাপনায় যেকোনো সময় নিউক্লিয়ার ও রেডিওলজিক্যাল ইমার্জেন্সির উদ্ভব হতে পারে যা মোকাবেলায় কমিশনকে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। উপযোগীতা যাচাই ছাড়া কমিশনে iBAS++ সিস্টেমে PL Account সৃজনের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলে তাৎক্ষণিক রেডিওলজিক্যাল ইমারজেন্সি মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাপশক চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৫-এর অনুচ্ছেদ ১৮ (২) অনুযায়ী কমিশনের বিজ্ঞানীদের পদসমূহ এবং বেতন-ভাতাদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুরূপ। বর্তমানে কমিশনের সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমনঃ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কোনোটিই iBAS++ System-এ তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে না। সেকারণে কমিশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পূর্বেই এ ব্যবস্থা চালু হলে বিজ্ঞানীদের বেতন-ভাতাদি, পেনশন ও গ্রেড প্রাপ্তি (গ্রেড-২, গ্রেড-১) বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী সংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ গত বছর ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উল্লিখিত যৌক্তিকতাসমূহ উপস্থাপন এবং কমিশনের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, পেনশন প্রদান ও কমিশনের অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার লক্ষ্যে ম্যানুয়্যাল পদ্ধতিতে কমিশনের অনুকূলে অর্থ ছাড় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করে। উপদেষ্টা বিজ্ঞানী সংঘের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কমিশনের অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা সত্ত্বেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ এবং কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে প্রচলিত পদ্ধতিতে অর্থছাড় করণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের সকল সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদপূর্ব বেতন ভাতাদি প্রাপ্ত হলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রায় ২৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কেউই বেতন-ভাতা পাননি। এ ছাড়াও যথাসময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায় কমিশনের গবেষণা এবং সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কমিশনের বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন। যথা- বিজ্ঞানী সংঘ, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এবং কর্মচারী পরিষদের সকল সদস্য উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।