Logo
Logo
×

জাতীয়

মানুষ দুই কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে: মির্জা গালিব

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৩০ পিএম

মানুষ দুই কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে: মির্জা গালিব

মানুষ দুই কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে বলে মনে করেন তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। যার ব্যাখ্যা তিনি শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেন।

মির্জা গালিব লিখেছেন, আর মাত্র এক দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু। রহমত, বরকত আর মাগফিরাতের মাস। এ মাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা লাওহে মাহফুজ থেকে নিকটবর্তী আসমানে পবিত্র কুরআন শরিফ নাজিল করেন। এ মাসেই জিবরিল (আ.) কুরআনের বাণী নিয়ে প্রথম রাসুলের (সা.) কাছে আসেন হেরা গুহায়। কুরআনের কারণেই রমজান মাসের আলাদা মর্যাদা।এ জন্য রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত করার আর অর্থ-ব্যাখ্যাসহ পড়ার চেষ্টা করা উচিত।

হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক লিখেছেন, দুইটা প্ল্যান করা উচিত- একটা নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতের। এক খতম করতে চাইলে দিনে এক পারা করে পড়া। খতম করতে না পারলেও অন্তত প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় করে কিছুটা পড়ার প্লান রাখা উচিত। আরেকটা প্ল্যান হইল- অর্থ আর ব্যাখ্যাসহ পড়া। যাদের মোটামুটি কুরআনের তাফসির আগে পড়া আছে, তারা শুধু অর্থ রিডিং পড়ার প্ল্যান করতে পারেন। বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে আমার পছন্দ গোলাম আযম সাহেবের সহজ বাংলায় আল কুরআনের অনুবাদ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ আররির টেক্সটের গঠনকে ঠিকমত অনুবাদ করতে পারে নাই। কিন্তু ভাষার প্রাঞ্জলতা খুবই উঁচু মানের। একটানা পড়ে যেতে ভালো লাগে।

তিনি লিখেছেন, যাদের তাফসির পড়া নাই, তাদের শুধু অর্থ পড়ে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হয়। এ জন্য ব্যাখ্যাসহ পড়তে হবে। তাফসিরের ক্ষেত্রে আমার সাজেশান হইল তাফহিমুল কুরআন আর মারেফুল কুরআন। তাফহিমুল কুরআন কিছুটা সংক্ষিপ্ত আর মারেফুল কুরআন তুলনামূলক অনেক ডিটেইলড। কুরআনের শেষ পারা, আর সূরা আল-বাকারা ও আলে-ইমরান অর্থ ব্যাখ্যাসহ পড়ার টার্গেট নিতে পারেন। শেষ পারার অনেকগুলো সূরা আমরা নামাজে নিয়মিত পড়ি, কাজেই অর্থ ব্যাখ্যা জানা থাকলে খুবই ভালো। আর সূরা বাকারা ও ইমরান পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিসে আসছে।

হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক লিখেছেন, রমজান তাকওয়া অর্জনের জন্য ট্রেনিংয়ের মাস। মানুষ দুই কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। তার নিজের নফসের তাড়নায় আর শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে। এ মাসে আল্লাহ শয়তানের ওয়াসওয়াসা বন্ধ করে দেন, আর সারা দিন না খেয়ে থাকার কারণে নফস দুর্বল হয়। ফলে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য সহজ হয়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো একটা মাস আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার অভ্যাস করতে পারলে, বছরের বাকি এগার মাস সেই অভ্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়। এ জন্য রোজা রাখা আর কুরআন পড়ার পাশাপাশি সকল ফরজ ইবাদত ঠিকমত করা এবং সকল হারাম থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকা উচিত। রাসুল (সা.) এর একটা হাদিস আছে, কেউ কেউ না খেয়ে থাকে কিন্তু তাতে তার কোনো ফায়দা হয় না। আমাদের রোজা যেন ওই রকম নিষ্ফলা না হয়।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম