ইজতেমা মাঠে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:১৬ পিএম

গত ১৭ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলায় সাদপন্থিরা জড়িত দাবি করে তাদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ ও তাবলিগের জুবায়েরপন্থি সাথীরা।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাবলিগের জুবায়েরপন্থি অংশের নেতা মুফতি আমানুল হক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ অনুসারীরা বর্তমান সরকারকে বৈষম্য বিরোধী বলে অভিযুক্ত করছেন। অথচ বর্তমান সরকার তাবলিগের বিষয়ে কোনভাবেই কোন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি। সাদ অনুসারীরা বারবার সন্ত্রাসী হামলা করেছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাদ অনুসারীদের নিষিদ্ধ করার আন্দোলন চলছে। সেখানে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমায় সাংঘার্ষিক অবস্থা ঠেকাতে সাদপন্থিদের অনুমতি না দিয়ে অন্য কোন জায়গায় তাদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়াকে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করা হাস্যকর।
তিনি বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর সাদপন্থিদের সাথে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা কেন্দ্রিক সরকারের পূর্ব নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে সাদ অনুসারীদের জানানোও হয়েছিল। ফলে আমরা ও আমাদের (জুবায়েরপন্থি) সাথীরা তাদের হামলা না করার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম। এই সুযোগে রাতে ২ হাজার নিরস্ত্র সাথীর ওপর প্রায় ৩০ হাজার সাদপন্থি সাথী একতরফাভাবে ইজতেমা মাঠে ঢুকে হামলা চালায়, এতে আমাদের ৪ জন সাথী নিহত ও শতাধিক আহত হয়। পরদিন মন্ত্রণালয়ে মিটিংয়ে তাদের একতরফা হামলাকে উপদেষ্টা পরিষদ ও সরকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন।
আমানুল হক আরও বলেন, ওই সময় আমরা জোরালোভাবে জানিয়েছি এই মাঠে সাদপন্থিদের ইজতেমা করার কোনো অধিকার নেই। পরবর্তীতে সরকার সময় স্বল্পতা ও বিদেশি মেহমানদের সম্মান রক্ষার্থে শুধুমাত্র এ বছর তাদেরকে ইজতেমা করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমাদের অনুরোধ জানাতে থাকে। যা বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার আগামী বছর থেকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিরা কোনো তাবলিগি কার্যক্রমে অংশগ্রহন করবে না এ শর্তে ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করার অনুমতি প্রদান করেন। অথচ সাদপন্থিরা প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ না করে বৈষম্য শব্দ ব্যবহার করে সহানুভূতি নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।