পাকিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণে মাওলানা হাক্কানিসহ নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-সামী (জেইউআই-এস)-এর প্রধান মাওলানা হামিদুল হক হাক্কানিও রয়েছেন।
শনিবার কেপির নওশেরা জেলার আকোড়া খাট্টাক এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম হাক্কানিয়া মসজিদে জুমার নামাজের পর এ বিস্ফোরণ ঘটে।
ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, জিও নিউজসহ দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে ইরনা ও মেহেরসহ ইরানের কয়েকটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা ২৫।
এদিকে কেপির সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দারুল উলুম হাক্কানিয়ার মসজিদের ভেতরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল।
এতে মাওলানা হামিদুল হক হাক্কানি নিহত হয়েছেন। তিনি প্রয়াত জেইউআই-এস নেতা মাওলানা সামিউল হক হাক্কানির ছেলে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদ স্থানীয় সংবাদ চ্যানেলগুলোকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মাওলানা হামিদুল হক হাক্কানিই ছিলেন হামলাকারীর প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, জুমার নামাজ চলাকালীন হামলাকারী মসজিদের পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করে এবং পরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।
বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
লেডি রিডিং হাসপাতাল (এলআরএইচ)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের জরুরি পরিষেবাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
জেইউআই-এস-এর মুখপাত্র আসলাম ঘোরি এক বিবৃতিতে এই বিস্ফোরণকে ‘মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এখন এমনকি মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুরক্ষিত নয়।
আসলাম ঘোরি আরও বলেন, ‘এখন জনগণের কষ্টের কথা শোনার মতো কেউ নেই’। পাশাপাশি তিনি জেইউআই-এর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আহতদের সহায়তা দিতে এবং রক্তদান করতে আহ্বান জানান।
হামলার প্রেক্ষাপট
মাওলানা হামিদুল হক হাক্কানি ছিলেন প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা প্রয়াত মাওলানা সামিউল হক হাক্কানির পুত্র। আর মাওলানা সামিউল হক হাক্কানি মূলত ‘তালেবানের আধ্যাত্মিক গুরু’ নামে পরিচিত ছিলেন।
উল্লেখ্য জেইউআই-এস প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সামিউল হক ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডির নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন।