লিবিয়া উপকূলে ৬৫ অভিবাসীবোঝাই নৌকাডুবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম

৬৫ অভিবাসী নিয়ে একটি জাহাজ লিবিয়া উপকূলে ডুবে গেছে। সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই নৌকায় পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন নাগরিকও ছিলেন। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের পরিচয় জানতে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন তারা। খবর জিও নিউজ।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রায় ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা লিবিয়ার জাওইয়া শহরের মারশা দেলা বন্দরের কাছে উল্টে যায়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃতদের পরিচয় শনাক্তে একটি দল প্রেরণ করেছে ত্রিপোলিতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস।
পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আরও জানানো হয়, দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানিদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (সিএমইউ) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সক্রিয় করা হয়েছে এবং যেকোনো সমস্যায় ০৫১-৯২০৭৮৮৭ হেল্পলাইনে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ত্রিপোলিতে কর্মরতদের সঙ্গে ০৩০৫২১৮৫৮৮২ (হোয়াটসঅ্যাপ) নম্বর ও +২১৮৯১৩৮৭০৫৭৭ (সেলফোন) ও +২১৮৯১৬৪২৫৪৩৫ (হোয়াটসঅ্যাপ) নম্বরে যোগাযোগে করা যাবে।
সম্প্রতি নৌকাডুবিতে পাকিস্তানিদের প্রাণ হারানোর মতো ঘটনা প্রায়শই দেখা যাচ্ছে। এবার লিবিয়ায় ওই নৌকাডুবি প্রাণহানিতে নতুন মাত্রা যোগ করলো।
উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে মৌরিতানিয়া থেকে স্পেন যাওয়ার পথে ৮৬জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় একটি জাহাজ। যার মধ্যে ৬৬ জন ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক।
মরক্কোর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কমপক্ষে ৪০ জন পাকিস্তানি। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৬ জনকে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ই ও ১৪ই ডিসেম্বরের রাতের মধ্যে ৮০ জন পাকিস্তানি যাত্রী নিয়ে গ্রিসে ডুবে যায় একটি জাহাজ।
উন্নত জীবনযাপনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে যাওয়ার পথ বেছে নেন এসব ব্যক্তিরা। আর তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেয় কিছু অসাধু মানবপাচারকারী। তবে এসব মানবপাচারকারী ও এর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের প্রশাসন।
এরপর থেকে ৩৫ জন কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি (এফআইএ) শীর্ষ দুই সদস্যকে ভিন্নপদে ও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে ধীর গতির কারণে সাবেক পরিচালক জেনারেল আহমেদ ইসহাক জাহাঙ্গীরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।