সিরিয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি ও ‘নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম

ইসরাইল-সিরিয়া সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় ১৫ কিলোমিটার (৯.৩ মাইল) অভ্যন্তরে একট ‘নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল’ এবং ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত গোয়েন্দা প্রভাবাধীন এলাকা স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনামা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী সিরিয়ার ভূখণ্ডে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি কার্যকরী বাফার জোন স্থাপন করতে চায়, যার মাধ্যমে গোলান মালভূমি রক্ষা করা হবে এবং সিরিয়া থেকে আগত সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে।
এছাড়া, পরিকল্পনায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করতে সক্ষম হবে। তেল আবিব বলছে, এর মাধ্যমে সিরিয়া থেকে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি ঠেকানো যাবে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টাকে বিপজ্জনক বলে সমালোচনা করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না, যার নেতৃত্বে আছেন আহমাদ আল-শারা।যিনি আগে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন।
২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র জোলানিকে সন্ত্রাসী হিসাবে ঘোষণা করে। বিশেষ করে তার মিলিশিয়া দলকে ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে নিষিদ্ধ করেছিল এবং তার মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে আসাদের পতনের পর এই পুরষ্কার বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে দামেস্কে সিরিয়ার নতুন শাসকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এইচটিএস বা হায়াত তাহরির আল-শাম একসময় সিরিয়ার আল-কায়েদা শাখার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে এখন গোষ্ঠীটি বলছে, তারা এখন নিজেদের বদলে ফেলেছে এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করার মতো একটি ব্যবস্থা চালু করতে চায়। তাদের মূল লক্ষ্য এখন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
আহমাদ আল-শারা জানিয়েছেন, তার দেশ এক দশকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধে ক্লান্ত। বর্তমান এটি তার প্রতিবেশী বা পশ্চিমাদের জন্য হুমকি নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, এবং জার্মানি আল-শারাকে গ্রহণ করতে তাড়াহুড়ো করছে, যাকে আমরা একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে দেখি। পশ্চিমারা তার সৃষ্টি করা হুমকি সচেতনভাবে উপেক্ষা করছে, তবে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো এ হুমকি সম্পর্কে সতর্ক এবং তার বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
আসাদের পতনের পর ইসরাইল একতরফাভাবে ১৯৭৪ সালের সিরিয়া-ইসরাইল বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি বাতিল করেছে। এছাড়া দখলকৃত গোলান মালভূমিতে অবস্থিত বাফার অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ এবং বেশ কিছু আরব দেশ নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরাইল যদিও বাফার জোনে তার উপস্থিতিকে অস্থায়ী বলে দাবি করছে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে সিরিয়ায় তাদের প্রভাব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল সিরিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থানে পরিকল্পনা দৃঢ় করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।