কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে এসআইয়ের পরকীয়া, অতঃপর...

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম

অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আব্দুর রউফ নামের এক উপপরিদর্শক (এসআই)। রউফ সেই সময় রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় রউফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তেও মিলেছে পরকীয়ার সত্যতা।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ওই কনস্টেবল শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্ত্রী এবং সন্তানের দুশ্চিন্তায় তিনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। দুই দফায় করেছেন স্ট্রোক।
এছাড়া এসআই রউফ তার পরকীয়া প্রেমিকাকে দিয়ে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আদালতে করিয়েছেন মিথ্যা মামলা। নানাভাবে ওই কনস্টেবলকে এসআই রউফ হয়রানি করছেন বলেও উঠেছে অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসআই রউফকে আরএমপি থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানায় বদলি করা হয়। আর পাবনার ঈশ্বরদীর একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন ভুক্তভোগী কনস্টেবল। এক সময় তিনিও আরএমপিতে কর্মরত ছিলেন।
স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনায় ওই কনস্টেবল গত বছরের মার্চে আরএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট এ অভিযোগের তদন্ত করে। ১২৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে ওই পুলিশ কনস্টেবলের অভিযোগের সত্যতা মেলে। এরপর রউফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
পরে আবারও আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম মামলার তদন্ত করে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছেন।
ওই পুলিশ কনস্টেবল অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে রাজশাহীর একটি স্কুলে অধ্যয়নরত। এ কারণে তার স্ত্রী নগরীর সাধুর মোড়ে নিজের বাবার বাড়িতেই থাকেন। বাড়ির অংশ নিয়ে বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এক শ্যালিকা বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান থানার তৎকালীন এসআই রউফ।
কনস্টেবল অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, একদিন তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে রউফকে তার স্ত্রীর সঙ্গে ডাইনিংয়ে একসঙ্গে খেতে দেখেন। তিনি রউফের পরিচয় আগে থেকে জানতেন না। স্ত্রীর কাছে জানতে পারেন- অভিযোগ তদন্ত করতে এসে রউফের সঙ্গে পরিচয়। এরপর রউফ তার শ্বশুরবাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়েছেন। তিনি একা থাকেন। রান্নার সমস্যার কারণে রউফ তার স্ত্রীর সঙ্গে খান।
ওই কনস্টেবল লক্ষ্য করেন, একদিন গভীর রাতে তার স্ত্রী ঘুমাচ্ছিলেন। তখন তাকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান রউফ। ওই কনস্টেবল মেসেঞ্জারের কথোপকথনে দেখেন- দুজনের একসঙ্গে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তিনি নিশ্চিত হন, স্ত্রীর সঙ্গে রউফের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ওই রাতেই তিনি রউফের সঙ্গে মোবাইলে উচ্চবাচ্য করেন। তার স্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, তার ভুল হয়ে গেছে। তিনি আর রউফের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না; কিন্তু সম্পর্ক ঠিকই চালিয়ে গেছেন। এসব ঘটনায় ফাঁড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে তিনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহকর্মীরা তাকে রক্ষা করেন।
ওই কনস্টেবল বলেন, রউফ বর্তমানে আমার স্ত্রীকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না। বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর তিনি আমার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে দিয়ে ডিআইজির কাছে অভিযোগ করিয়েছেন। আদালতে যৌতুকের মিথ্যা মামলাও দিয়েছেন। আমাকে চাকরিচ্যুত করতে রউফ চেষ্টা করছেন। আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক তদন্তে প্রমাণিত। রউফ আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। এসব কারণে আমি দুই দফা স্ট্রোক করেছি। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমি বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করলে রউফ দাবি করেন, ওই কনস্টেবল এবং তার স্ত্রীকে তিনি চেনেনই না।
কনস্টেবলের শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরে বসবাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ভাড়া উঠেছিলাম। তবে তার স্ত্রীর সঙ্গে আমার পরকীয়া সম্পর্ক নেই।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কথা বলার সময় রউফ পরকীয়া সম্পর্কের প্রমাণ দেখতে চান। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে কনস্টেবলের লিখিত অভিযোগ ও তার বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার কপি, কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ও মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশট পাঠানো হয়। এরপর ফোন করলে তিনি আর ধরেননি।
আর এসআই রউফের কথায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনস্টেবলের স্ত্রী মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এসআই রউফের বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে আরএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বিভাগীয় মামলা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার নিয়ম নেই।