সাজেকে অগ্নিকাণ্ড, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তরা

সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

সর্বনাশা আগুন কেড়ে নিয়েছে সব সহায়-সম্বল। আগুনে পুড়ে বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসস্তূপ হয়ে মিশেছে পোড়ামাটিতে। ছাই হয়ে গেছে অর্থ-সম্পদগুলো। দুর্বিষহ মানবেতর দিন কাটছে নিঃস্ব মানুষগুলোর।
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালির আগুনে পুড়ে সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো। তবুও তো বাঁচতে দাঁড়াতে হবে ঘুরে। তাই দুশ্চিন্তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় তারা। তবে সরকারের পক্ষে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস।
২৪ ফেব্রুয়ারি একটি রিসোর্ট থেকে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়ে সাজেক ভ্যালির আশপাশের স্থাপনা ও বাড়িঘরে। এতে ভস্মীভূত হয়ে গেছে ৩৫টি রিসোর্ট-কটেজ, ৩৬টি বসতঘর, ৭টি রেস্টুরেন্ট ও ২০টি দোকান।
ঘটনার তদন্তে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি ধারণা করে বলছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা সিগারেটের আগুন থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটতে পারে।
সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, সাজেকে এবার আগুনে যে ক্ষতি, তা অপূরণীয়। কিন্তু তবুও তো নতুন করে বাঁচতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে। আগুনে শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রিসোর্ট-কটেজের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর স্থানীয় ৩৬ পরিবারের লোকজন। এদিন বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছুই রক্ষা করতে পারেনি অনেকে। বর্তমানে দুশ্চিন্তার মধ্যে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বলেন, সাজেকে রির্সোটগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া রির্সোটগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের কোনো সরঞ্জাম না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। পানিরও তীব্র সংকট ছিল সেখানে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণদেব বর্মণ জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৩৫টি রিসোর্ট, ৩৬টি বসতবাড়ি, দোকান ২০টি, রেস্টুরেন্ট ৭টি। এটি প্রাথমিক পরিসংখ্যান। এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা কাম্য। সহায়তা ছাড়া নতুন করে বাঁচার অন্য কোনো উপায় নেই তাদের।
বুধবার সাজেকের অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্তের পর কমিটির প্রধান ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো.মোবারক হোসেন জানান, তদন্তের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা সিগারেটের আগুন থেকে সাজেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবগুলো কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সাজেকের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় বুধবার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি।
এরপর বৃহস্পতিবার কথা হলে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ বলেন, সাজেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে সরকার। ব্যবসায়ীরা যেন আবার ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন সেজন্য ব্যাংকগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, এ ক্ষতি অপূরণীয়। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত, অতি দুঃখজনক। তবুও দায়িত্ব ও মানবিক দিক বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে। সাজেক ভ্যালিতে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অনুরোধ করব। সেখানে যে পানির সমস্যা, সেটির নিরসন নিয়েও কাজ করা হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জন্য করপোরেট লোনের ব্যবস্থা করে দিতে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করব। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কিভাবে খাওয়ানো যায় তা নিয়ে ব্যবস্থার কথা ভাবছি। আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের গৃহ নির্মাণের জন্য পরিবার প্রতি ২ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করব। সাজেক ভ্যালিতে একটি সরকারি হাসপাতাল অথবা ক্লিনিক নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান পার্বত্য উপদেষ্টা।