Logo
Logo
×

সারাদেশ

বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত শার্শা

Icon

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৪ পিএম

বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত শার্শা

বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সংঘাত-সহিংসতায় ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায়। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলি, বোমা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দলটির বেশ কয়েজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সমস্যা সমাধানে দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ ও সহসভাপতি সরোয়ার হোসেনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এতে উপজেলার বিভিন্নস্থানে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১০ টার দিকে গোগা ইউনিয়নের অগ্রভুলোট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আতিয়ার রহমান (৫৮) ও শফিকুল ইসলাম (৫৮) নামে বিএনপির দুই নেতাকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। 

আহত আতিয়ার ওই গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শফিকুল একই গ্রামের সৈয়দ আলী গাইনের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপক্ষের দ্বন্ধের জেরে সোমবার রাতে অগ্রভুলোট গ্রামের বাজারে সরোয়ার সমর্থক খোদাবক্সের ছেলে বাবুল (৪৮), গোলাম হোসেনের ছেলে মিকাইল হোসেন (২৮) ও একই গ্রামের রমিজউদ্দীনের ছেলে কবিনূরসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন আব্দুল হামিদ সরদার সমর্থিত আতিয়ার রহমানকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাঁটুর হাড় ভেঙ্গে দেয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে শফিকুল নামে অন্য এক বিএনপি নেতাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। এ সময় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হামিদ সরদার সমর্থিত নেতাকর্মীরা বাজারে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মঙ্গলবার সকালে ওই বাজার থেকে একটি তাজা বোমা ও গুলির খোসা উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের কন্যাদহ গ্রামে ছোট শহীদের বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে রেজাউল, জনি, জিরেনগাছা গ্রামের ডাবলুসহ ২০ থেকে ৩০ জন। অতর্কিত বোমা হামলায় আহত হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন কন্যাদহ গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে রমজান, হাবিবুর রহমানের ছেলে মিলন হোসেন, মতি গাইনের ছেলে হাচানুর রহমান, কিনা মোড়লের ছেলে আমিন মোড়ল, মতিয়ার গাইনের ছেলে শাহ আলম গাইন, রবিউল ইসলামের ছেলে সাহেব আলী এবং আব্দুল মালেকের ছেলে সোহাগ হোসেন।  

এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেসবুকে লেখেছেন- বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, আমি শার্শা থানার গোগা, অগ্রভুলোট, কায়বা, নিজামপুর, গোরপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখল, লুটপাট এবং এই জাতীয় অন্যান্য জঘন্য কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। 

তিনি লেখেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে যারা এই ধরনের জঘন্য কার্যকলাপ করছে, বিএনপি কখনও তাদের সমর্থন করে না। 

তিনি আরও লেখেন, থানা বিএনপির নেতারা কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারবেন না। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করা কখনও সম্ভব হবে না। যেখানেই এই ধরনের কার্যকলাপ ঘটবে, থানা বিএনপির উচিৎ কঠোরভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এদিকে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনাকে চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের কারণে নয় বলে দাবি করেন। তার মতে, নেতৃত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান লিটন বলেন, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব নয়, এখানে ঝামেলা হচ্ছে নেতৃত্ব নিয়ে। বড় দল হলে নেতার সংখ্যাও বেশি হয়।   

শার্শা উপজেলার সার্কেল এএসপি নিশাত আল নাহিয়ান জানান, উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও বোমাবাজির ঘটনাগুলো আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে, এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব, তাই সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাই। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম