Logo
Logo
×

সারাদেশ

তাসলিমা নাসরিনকে শোকজ

Icon

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:২৭ এএম

তাসলিমা নাসরিনকে শোকজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সবগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখে মিলনমেলা ও বনভোজন করেন শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির নেতারা। এতে অংশ নেন বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এদিকে শিক্ষকদের ছুটি মঞ্জুর করার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লাইলা তাসলিমা নাসরিনকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

স্কুল বন্ধ রেখে এই আয়োজন চলায় অভিভাবক মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটি বাতিল করে বিদ্যালয় খোলার নির্দেশ দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। 

সোমবার চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শাখার ব্যানারে আক্কাছ লেক ভিউ পার্ক এন্ড রিসোর্ট এ মিলনমেলা ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়। 

শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, সংরক্ষিত ছুটি নিয়েই তারা আয়োজন করেছেন। পরে ছুটি বাতিল করা হলে সবাই ক্লাসে ফিরে গেছেন।

ছবি: চুয়াডাঙ্গায় পিকনিক অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা

এদিকে কিভাবে ও কেন ছুটি দিয়েছেন, তা জানতে চুয়াডাঙ্গা উপজেলার শিক্ষা অফিসার লাইলা তাসলিমা নাসরিনের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

অভিভাবকরা বলেছেন, এ বছর বেশিরভাগ শিক্ষাথীরা এখনো বই পায়নি। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সোমবার বিদ্যালয় বন্ধ করে বনভোজন। মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। এমনিতেই শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর এভাবে ছুটি দিয়ে বনভোজন করা ঠিক হয়নি। অনুষ্ঠানটি যেকোনো ছুটির দিনে করা উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।

রাজনৈতিক দলের নেতারা এ মিলনমেলায় অংশ নেন। স্কুল বন্ধ রেখে এই আয়োজন করায় আলোচনার জন্ম হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারী দাওয়াত পেলেও শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন যোগ দেননি। তবে পিকনিকের চাঁদা দিলেও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি পিকনিকের রান্না করা বাহারি খাবার।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত ছুটির আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমাদের ছুটি মঞ্জুর করেন। এরপরই মিলনমেলা ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়। আয়োজন চলার সময়ে হঠাৎ আমাদের জানানো হয় ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এখনি স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এরপরই বেলা ২টার মধ্যে আমরা গুছিয়ে বের হয়ে যাই। 

তিনি বলেন, শিক্ষকরা বছরে তিনটি সংরক্ষিত ছুটি পান। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ছুটি পাশ করিয়ে আয়োজন করেছিলাম। তবে কয়েকটা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ না করায় তাদের বিদ্যালয় খোলা ছিল। এ বিষয়টি এখন কেন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।

সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষিকা বলেন, সমিতির নেতারা বনভোজনের জন্য ৫০০ টাকা চাঁদা তুলছেন। বনভোজনে শিক্ষকদের যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহণের ব্যবস্থা রাখেনি। ১৫ কিলোমিটার পথ নিজ ব্যবস্থায় যেতে হবে। তাই আমার মত অনেকেই চাঁদা দিয়েও বনভোজনে অংশ নেইনি।  

বনভোজনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক জানান, আগে কখনোই বিদ্যালয় বন্ধ রেখে এভাবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বনভোজন আয়োজন হয়নি। বনভোজনের জন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। কিন্তু আয়োজনে ত্রুটি থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেক শিক্ষক খাবার পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

উপজেলা শিক্ষা অফিসার লাইলা তাসলিমা নাসরিন বলেন, শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে প্রধান শিক্ষকরা বছরে তিনদিন সংরক্ষিত ছুটি নিতে পারেন। আমরা শিক্ষকরা বিশেষ করে শিক্ষক সমিতির যারা আছেন, উনারা চেয়েছিলেন তাদের আয়োজনে পিকনিক করবেন। তাই সব শিক্ষকরা সংরক্ষিত ছুটির জন্য আবেদন করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমি ছুটি দিই। 

শিক্ষা অফিসার লাইলা তাসলিমা নাসরিন বলেন, এর আগে কখনো এমন হয়নি। শিক্ষকরা সংরক্ষিত ছুটি নিয়ে থাকেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্রুপিংয়ের কারণে রিপোর্ট হয়েছে। আয়োজন চলার সময়ে ছুটি বাতিল করা হলে সব শিক্ষকরা তাদের বিদ্যালয়ে যায় এবং ক্লাস শুরু করেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। আমি ব্যাখ্যা দিবো। 

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছুটি বাতিল করে বিদ্যালয় খোলা হয়েছে। সারাদিন ক্লাসও হয়েছে। ছুটি কিভাবে দিয়েছিলেন, কেন দিয়েছেন তা জানতে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম