Logo
Logo
×

শেষ পাতা

রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল

ভুয়া কাগজে অন্যের জমিতে বহুতল ভবন * জড়িত রাজউকের একটি চক্র

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পে যুগ্ম-জেলা জজ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ গোপন রেখে ‘ভূমি ব্যবহার’ ছাড়পত্র নেওয়ায় তা বাতিল করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সম্প্রতি রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখা থেকে রূপায়ণ গ্রুপের ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ প্রকল্পের প্রায় ১০ একর জায়গার ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু কাউছার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রূপায়ণ চিঠি উত্তরা প্রকল্পের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা জায়গার দেওয়ানি মামলার নম্বর ৫/১৩ বিষয়ে যুগ্ম-জেলা জজ আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

কিন্তু সেসব তথ্য গোপন রেখে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদন করে রূপায়ণ গ্রুপ। যাতে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে ৫ নম্বর শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এ কারণে রাজউকের নগর পরিকল্পনা বিভাগের রাজউক/নঃপ্রঃ/অঞ্চল-২/১৯৫/১৫/০৩১০ স্মারক নম্বরে ২৬/৫/১৫ সালে দেওয়া ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাতিল করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পের ওই জায়গাগুলো তুরাগ থানাধীন নলভোগ মৌজাস্থিত সি.এস ৫৭/৩৫ এবং এস.এ ৬০০ নম্বর দাগে। ওই জায়গার আর.এস ১২০ নম্বর খতিয়ানের ৫৯৮ নম্বর দাগের এবং সিটি জরিপে খ তফসিলের ৪ নম্বর খতিয়ানভুক্ত। দাগ নম্বরগুলো হলো-৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫২৫৩, ৫২৫৫, ৫২৬১, ৫২৬৩, ৫২৬৪, ৫২৬৫, ৫২৬৬, ৫২৬৭, ৫২৬৮, ৫২৬৯, ৫২৭০ এবং ৫২৭১।

ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে উত্তরা আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন তুরাগ থানাধীন নলভোগ ও রানাভোলা মৌজায় গড়ে তুলছে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ প্রকল্প। সেসব জমিতে বহুতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজও শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রে রূপায়ণ গ্রুপ বড় জালিয়াতি করলেও সবকিছুতে রাজউকও সমর্থন জুগিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অনেকে রাজউকে অভিযোগ দিয়েছেন এবং কোর্টেও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

তারা আরও জানায়, রূপায়ণ সিটির ভেতরে থাকা প্রায় তিন একর জমির মালিকানা কোর্ট অব ওয়ার্ডস-এর আওতাধীন ভাওয়াল রাজ এস্টেটের। প্রকল্পের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই হাতের বাম পাশে পড়বে এই জমিটি। এখানে প্রায় ৩০ লাখ স্কয়ার ফিটের বিজনেস কাম শপিং সেন্টার নির্মাণ করছে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড; এখানে সরকারি এবং অন্য মালিকের জমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর।

অন্যের মালিকানাধীন জমি ও সরকারি জমি এবং আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়গুলো রাজউকের দৃষ্টিগোচর হলে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা হয়। যদিও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আগে এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধরা রাজউককে বারবার বললেও তা আমলে নেয়নি রাজউকের অসাধু চক্রটি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা-৩ থেকে রূপায়ণ হাউজিংয়ের আবাসিক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়ে ড্যাপ রিভিউসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান মুকুলের নামে গেজেট হয়েছে, সেসব জমির অনেকাংশের মালিক নন রূপায়ণ চেয়ারম্যান। কোনোটার মালিক সরকার, আবার কোনোটা অন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের মালিকানাধীন।

ভুক্তভোগীদের একজন হাজি মোহাম্মদ মোস্তফা জামান যুগান্তরকে বলেন, জালিয়াতি করে রূপায়ণ গ্রুপ দখলে রাখা জমিগুলোর একাংশের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করেছে রাজউক। কেননা, কাজ করার সময় ওই অংশের ওপর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে রূপায়ণ। অন্যান্য অংশ নিয়েও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় রূপায়ণ এসব জালজালিয়াতি করেছে। এ ঘটনায় তিনি দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ জমির মালিকানা ফেরত চান। এখনো রাজউকের যারা রূপায়ণের অবৈধ কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরও বিচার দাবি করেন ওই ভুক্তভোগী।

এ প্রসঙ্গে রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ (জোন-১) মো. আবু কাউছার যুগান্তরকে বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থার তথ্য গোপন করে ভূমি ব্যবহার অনুমোদনের আবেদন করে রূপায়ণ সিটি উত্তরা। যা ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি নজরে এলে রূপায়ণ সিটি উত্তরার ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার যুগান্তরকে বলেন, রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পের একটি অংশের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। কিন্তু কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে বৃহস্পতিবার রাতে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান মুকুলের মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি রেসপন্স করেননি।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম