
প্রিন্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম
রাজধানীর মনিপুর স্কুলে শত শত কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ

যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৪, ১০:৪২ পিএম

আরও পড়ুন
রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গর্ভনিং বডির সদস্যরা শত শত কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে অভিভাবকরা। এছাড়া ট্রাস্টের নামে এই প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করার অপচেষ্টা চলছে।
তাদের অভিযোগ- এমপিওভুক্তি বাতিল করে অবৈধভাবে ট্রাস্ট গঠন করে তার অধীনে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার চেষ্টা করছে একটি মহল। এজন্য মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে কোনো সেনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিও তুলেছেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গভর্নিং বডি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিভাবকদের পক্ষে মো. একলিমুর রেজা কোরাইশ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক একলিমুর রেজা কোরাইশ বলেন, দানবীর নূর মোহাম্মদ ১৯৬৯ সালে মনিপুর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৩ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
একটি কুচক্রী মহল এই প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বাতিল করে ট্রাস্টের অধীনে নেওয়ার অপতৎপরতা চলাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার কিছু মন্তব্য করেছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে না থাকতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের আগস্টে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এ প্রজ্ঞাপনের পর এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতির চেয়ারে তার মেয়ে রাশেদা আক্তারকে বসান। তিনি অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন। এছাড়া ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষকদের এমপিওর টাকা তুলতে দেওয়া হয় না। অথচ প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের সরকারি অংশের টাকা আসে।
এই অভিভাবক বলেন, সাবেক গভর্নিং বডির কমিটির সদস্য ও এডহক কমিটির সভাপতি এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন ও তার পিএ মিলে স্কুল থেকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের বয়স আগামী ৯ ই মার্চ ৬০ বছর পূর্ণ হবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ নিয়োগ আবশ্যক। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো এডহক ম্যানেজিং কমিটি বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী বা শিক্ষা ক্যাডার থেকে ডেপুটেশনে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া প্রতি বছর পুনঃভর্তি ও বিভিন্ন খাতে অযৌক্তিক ফি আদায়ের বিষয়টি অভিভাবকদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে স্কুলে বার্ষিক আয় প্রায় শত কোটি টাকার ওপরে। এছাড়া, শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যে আয় হয় প্রায় আরও কয়েক কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক কবিতা আক্তার, মোজাম্মেল হোসেন ভুঁইয়া ও স্কুলের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।