তুচ্ছ ঘটনায় ঢাবি শিক্ষককে মারধরে সাদা দলের নিন্দা, জড়িতদের শাস্তির দাবি

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৫, ১২:১৮ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মিরপুর সুপার লিংক (৩৬ নম্বর) বাসের ড্রাইভার এবং হেল্পারের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক আদীব শাহরিয়ার জামান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। শুক্রবার সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষকের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলা হয়, তাকে শত মানুষের সামনে মারধর করা হয়েছে। তিনি শুক্রবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ডিউটি শেষ করে মেট্রোরেল না থাকায় লোকাল বাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। নিউমার্কেট থেকে ৩৬ নাম্বার বাসে উঠেন। বাসটি মিরপুর-১০ এ গিয়ে ট্র্যাফিক সিগনালে পরে। দীর্ঘ মিনিট বিশেক সিগন্যালে দাঁড়ানোর পর সিগন্যাল ছাড়লে বাসটি আরেকবার ইচ্ছাকৃতভাবে থামানোর চেষ্টা করে। বাসের অর্ধেকের মত যাত্রীই ছিল ভর্তি পরীক্ষার্থী। তারা অনুনয় করতে থাকে সিগন্যাল পার হওয়ার জন্য। কিন্তু এরপরেও বাসটি কেবল বাঁয়েই ঘেঁষতে থাকে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক গাড়ির চালক ও হেলপারকে ধমক দেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের ধমকের উত্তরে ড্রাইভার আর হেল্পার তর্ক করতে শুরু করে এবং সড়কের বামে একদম পুরোপুরিভাবে দাঁড়িয়ে যায়। এসময় ওই শিক্ষক আবারো কেবলই পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ চিন্তা করে চালক-হেল্পারকে বকাঝকা করেন। এরপরই ড্রাইভার ঢাবির শিক্ষককে হুমকি দেয় যে, মিরপুর-১১ নাম্বার স্টেশনে তাকে নামতে দেবে না। একবারে লাস্ট স্টপেজে নিয়ে তারা তাকে পিটাবে। এর জন্য এমনকি তারা অন্য যাত্রীকেও জায়গা মত নামতে দিচ্ছিল না। এতে বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষক আবারো রাগারাগি করেন এবং ১১ নম্বরের কাছে বাস থামাতে বাধ্য করেন। তখনই গাড়ির ড্রাইভার আর হেলপার ওই শিক্ষকের সঙ্গে নেমে পড়ে। একপর্যায়ে ড্রাইভার একটা বাঁশ জোগাড় করে ঢাবির শিক্ষক আদীব শাহরিয়ার জামানের মাথায় আঘাত করেন ও পেটে লাথি দেন, গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর তাড়াতাড়ি করে বাসে উঠে ড্রাইভার আর হেলপার বাস নিয়ে চলে যান।
বিবৃতিতে সাদা দলের শিক্ষক নেতারা বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা এ ঘটনার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে অতিদ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত বাসের চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।