
প্রিন্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩১ এএম
বাকৃবিতে শিক্ষককে মারধর, বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ

বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩০ পিএম

আরও পড়ুন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক এলাকায় শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা ও বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহযোগী অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল হককে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সড়কে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই শিক্ষক ও অধ্যাপক আফরিনা মুস্তারীর বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই রাতে অধ্যাপক মো. শহীদুল আলমের বাসায়ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানান অধ্যাপক আফরিনা মুস্তারী।
ঘটনার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের অনুপস্থিতি ও ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষকদের মাঝে।
ভুক্তভোগী প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল হক বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব থেকে বাসায় ফিরছিলাম। ঠিক সেই সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজন দুর্বৃত্ত আমার পিছু নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তারা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মোটরসাইকেল থেকে নেমে দৌড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা আমাকে আবারো আক্রমণ করে। তারা আমাকে এলোপাতাড়ি লাথি দেয় এবং হাতের মুঠিতে কিছু একটা রেখে ঘুসি দিতে থাকে। মাথায় হাত দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে বড় কোনো বিপদ হয়নি। হামলার পর তারা আমার বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনা সম্পর্কে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালেও তদন্ত বা বিচার নিয়ে কোনো আশ্বাস আমাকে তারা দেয়নি। প্রক্টরিয়াল বডি আমার বাসায় এসে শুধু বলেছে যে বিষয়টি দুঃখজনক।
তিনি বলেন, যদি আমাকে গুলি করত, তাহলেও কেউ নিরাপত্তা দিতে আসত না। আমি মনে করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক আফরিনা মুস্তারী বলেন, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে আমার বাসার সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ করে চলে যায়। গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার ভেতরে ককটেল নিয়ে কেউ কিভাবে অবাধে চলে আসতে পারে সেটাই আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের তাহলে কাজটা কী? এতরাতে আবাসিক এলাকার ভেতরে কেউ এলে তাকে অবশ্যই তল্লাশি করে তারপরে অনুমতি দিতে হবে।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলার জন্য কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. শহীদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।