
প্রিন্ট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪১ পিএম
‘রবীন্দ্রনাথের দুই গান গাইতে তিন কোটি চাইলেন অরিজিৎ’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:০৬ পিএম

আরও পড়ুন
মুম্বাইয়ের একটি খ্যাতনামা অডিও সংস্থার বিশেষ উদ্যোগে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে ছয়টি রবীন্দ্রসংগীত। এই কাজের জন্য মায়ানগরীর গানের লেখক অমিতাভ ভট্টাচার্যকে গান অনুবাদের দায়িত্ব সঁপেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। রবীন্দ্রনাথের এই ছয়টি গান কোথায় বা কবে কীভাবে লেখা হয়েছিল, সেই কাহিনি বলেছেন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। শান, বাবুল সুপ্রিয়, শ্রেয়া ঘোষাল, মধুমন্তী বাগচি গান গেয়েছেন এই নতুন হিন্দি ভাষার রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবামে। কথা ছিল অরিজিৎ সিং একটি একক এবং দ্বৈত গান গাইবেন এই অ্যালবামে।
বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে এমন উদ্যোগে উৎসাহী বাবুলকে সেই অডিও সংস্থার তরফে অনুরোধ জানানো হয়, তিনি যেন অরিজিতের সঙ্গে গান রেকর্ডিং সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন।
এর কিছু দিন পরেই অরিজিতের সচিবের তরফে জানানো হয়, প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটি টাকা পারিশ্রমিক লাগবে। পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনে কার্যত হতবাক বাবুল সুপ্রিয়। জানা গেছে, বাকি সংগীতশিল্পীরা ন্যায্য পারিশ্রমিকের চেয়ে অনেক কম পারিশ্রমিকে গান গেয়েছেন, হাজার হোক রবীন্দ্রনাথের গান বলে কথা। শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই অন্য শিল্পীরা এই কাজে উদ্যোগী হয়েছেন। এখানে তাই গানের ব্যবসায়িক দিক নয়, বড় হয়ে উঠেছে হিন্দিতে নতুন করে রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে অরিজিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গানগুলো সফল হলে অডিও সংস্থার তরফে শিল্পীদের রয়্যালটি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। তা সত্ত্বেও অরিজিতের পারিশ্রমিক দেড় কোটি— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংগীতমহলে। সংগীত জগতের ঘনিষ্ঠমহল থেকে ঘটনা জানতে পেরেছে একটি গণমাধ্যম। এর পর বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ এটি সত্যি। এটা তো কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। রবীন্দ্রসংগীতের মতো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এ কাজের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটির পারিশ্রমিক চাওয়াটা আমার কাছে খুব অনুচিত। আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমরা নিজেরাও কম পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। আমরা তো জানি অরিজিৎ খুব সাদামাঠা জীবনযাপন করে। আমরা তা-ই দেখেছি। সে ক্ষেত্রে এই টাকার অঙ্কের সঙ্গে অরিজিৎকে মেলাতে পারছি না। বিশেষ করে যখন গানগুলো গাওয়ার ব্যাপারে ওর সঙ্গে আমার শুধু পারিশ্রমিক ছাড়া, আর সব ব্যাপারে ফোনে বিস্তারিত কথা হয়েছিল!
বাবুল আরও বলেন, এই অঙ্কের পারিশ্রমিক শুনে মুম্বাইয়ের যে খ্যাতনামা অডিও সংস্থা এটা রেকর্ড করছে, তার কর্ণধার অরিজিতের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি রয়্যালটি ইত্যাদিরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু ওকে রাজি করানো যায়নি। আমরা সবাই খুবই আশাহত। গত সপ্তাহে মুম্বাই গিয়ে শ্রেয়ার দুটি গান, শান ও মধুমন্তীর গানগুলো ডাব করে এসেছি। সব বাঙালি গায়ক-গায়িকাকেই হিন্দি সংস্করণটিতে চেয়েছিলাম, তাই অমিতাভ ভট্টাচার্যকে দিয়ে গানগুলো লেখানো হয়েছে। খুবই পরিশ্রম করেছি আমরা, যাতে রবীন্দ্রনাথের গানের হিন্দি সংস্করণ করতে গিয়ে মূল গানগুলোর ভাব পরিবর্তন না হয়। জানি না, অরিজিৎ খুব সাদামাঠাভাবেই জীবনযাপন করে বলে জানি, জঙ্গিপুরে স্কুটারে ঘোরার ছবি, ভিডিও দেখি, তা হলে বাঙালি হিসাবে রবিঠাকুরের গান গাইতে কী এমন হলো সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান স্বাভাবিকভাবেই শ্রদ্ধামিশ্রিত! অরিজিৎকে নিয়ে ভাবা গানগুলো ওকে ছাড়া ভাবতেই পারছি না।