Logo
Logo
×

বিনোদন

আমাদের ভিতটা ‘পুরাতন’ বলে টিকে গেছি: ঋতুপর্ণা

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:০৪ পিএম

আমাদের ভিতটা ‘পুরাতন’ বলে টিকে গেছি: ঋতুপর্ণা

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুতই মুক্তি পাচ্ছে টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নতুন সিনেমা ‘পুরাতন’। এর আগে একটি গণমাধ্যমে তার সিনেমা, জীবন ও নানা বিষয়ে নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। 

‘পুরাতন’–এর গল্পটা কেন ভালো লেগেছিল?—এমন প্রশ্নের উত্তরে ঋতুপর্ণা বলেন, এই সিনেমার গল্পটা পুরাতন আর নতুনের মেলবন্ধন। আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। ওর মতো একজন প্রথিতযশা শিল্পী, যিনি পুরোনো সময়টা দারুণভাবে যাপন করেছেন, আজ অবধি উনি রেলিভেন্ট থেকেছেন, তাকে নিয়ে সিনেমা করলে স্ক্রিপ্টটা তো একটু বিশেষ হতেই হবে। উনি আমাকে বলেছিলেন— চিত্রনাট্য পছন্দ হলে তবেই সিনেমাটা করবে। আমরাও চেষ্টা করেছি ওকে দারুণ একটা চরিত্র দিতে, যাতে এত বছর পর ওর অভিনয় করাটা জাস্টিফিকেশন থাকে।

তিনি বলেন, ‘পুরাতন’–এ আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শর্মিলাজি। আমি সুমনকে বলেছিলাম (পরিচালক সুমন ঘোষ) মা আর মেয়ের গল্প নিয়ে একটা ফিল্ম করতে চাই। তখন ও এই গল্পটা শোনায়। মায়েদের পুরাতন, সনাতন চিন্তাভাবনা থাকে। তার সঙ্গে আমাদের যে নতুন ধারণার মেলবন্ধনকে খুব ভালো একটা স্টোরি লাইনে বাঁধা যেতে পারে বলে মনে হয়েছিল। সেই থেকেই ‘পুরাতন’।

 এক বছর আগে আপনি মা–কে হারিয়েছেন। এই গল্পটা কি সেই জন্যে বিশেষ? ঋতুপর্ণা বলেন, অবশ্যই। মাকে হারানোর পর সিনেমাটা যেন আরও বেশি করে বুকের মধ্যে বাজছে। মাকে ফিল্মটা দেখাতে পারলাম না বলে খুব কষ্ট হচ্ছে।  তিনি বলেন, মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো, মায়ের কাছাকাছি থাকা, এটার যে একটা আলাদা মর্ম আছে, সেটা বুঝতাম। কিন্তু তবু আমাদের ব্যস্ততার জন্য কখনো-কখনো সেই সময়টা হারিয়ে ফেলি আমরা। কিছু সময় মা অসুস্থ ছিলেন। শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু হারিয়ে ফেলা সময়টার যে দুঃখ, সেটা তো চিরদিনই বইব। এই সিনেমার মধ্যেও মা–মেয়ের অদ্ভুত কিছু মুহূর্ত আছে। সেই মুহূর্তগুলো এখন আরও বেশি মূর্ত হয়ে উঠেছে। মাকে হারানোটা বিরাট বড় একটা ভ্যাকিউম তৈরি করেছে। এই ফিল্মটা দেখলে দর্শকরা ভালোলাগার রেশ বয়ে নিয়ে চলবেন বলেই আমার মনে হয়।

এতটা সময় কাটানো, একসঙ্গে অভিনয় করার পর, মানুষ হিসেবে শর্মিলা ঠাকুরকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, শর্মিলাজির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা দারুণ। বন্ধন, স্বতঃস্ফূর্ততা, ডিগনিটি, এলিগেন্স —বলে বোঝানো যাবে না। উনি একজন সফল মানুষ। কাজের দিক থেকে সফল, স্ত্রী হিসাবে, মা হিসাবে এবং দিদা–ঠাকুমা হিসাবে সফল। তিনি বলেন, আমি দেখেছি ফিল্মের সেটে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে, ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলতে। কখনো সাইফ আবার কখনো সোহা–সাবা (আলি খান) ফোন করতেন। কোনো এক নাতি বা নাতনির জন্মদিন ছিল। উনি বললেন, ‘আমি এই বলটা কিনব ওর জন্য’। এই যে আদর, এখন দেখে মনে হয়, এটাই জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। ঋতুপর্ণা বলেন, এই সংক্রান্তিতেই আমি ভাবছিলাম, আমার মা নেই, ঠাকুমাও নেই, পিঠে–পুলি বানানোর আর কেউ নেই। অনেকেই নিয়ে এসেছেন। কিন্তু মা–ঠাকুমার আদরটা নেই।

শিল্পীরা আবেগপ্রবণ মানুষ হন, আর প্রযোজককে হিসাবি হতে হয়। এই দুই সত্তাকে সামলান কীভাবে? ঋতুপর্ণা বলেন, একটা গল্প বলি—একদিন আমি শর্মিষ্ঠাকে (মুখোপাধ্যায়) বললাম, কী রে আমার শট নিলি না? ও বলল, ‘আজ তোমার শট নেওয়া যাবে না। ওই অ্যারেঞ্জমেন্টে অন্য শটগুলো নিতে হবে। না হলে খরচ বাড়বে।’ আমি তখন বললাম, আমার ডেটটা তো তা হলে নষ্ট হলো। শর্মিষ্ঠা বলেন, ‘ভুলে যেও না এটার প্রযোজকও তুমি।’ আমার অভিনেত্রী সত্তাটাই সবচেয়ে বেশি ডমিনেটিং। আগে থেকেই বলে দিই কতটা পারব আর কোনটা পারব না। সেটে আমি শুধুই অভিনেত্রী। আমার সংস্থার নাম হলেই খুশি।

ওটিটি–তে কাজ করার ইচ্ছা আছে? অভিনেত্রী বলেন, অবশ্যই। এটা আমার বহুদিনের আশা। আমি অপেক্ষা করে আছি, দারুণ একটা চরিত্রর জন্য, যা অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে ভাবাবে। যে চরিত্রটা আমাকে দিয়ে দারুণ এক্সাইটিং কিছু করিয়ে নেবে।

সামাজিক মাধ্যম ছাড়া সুপারস্টার হওয়ার কাজটা কতটা কঠিন বলে মনে করেন? এ প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, আমি সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনা করতে চাই না। তবে আমি যে সময়ে কাজ শুরু করেছিলাম, পরিচালককে অবলম্বন করেই এগিয়েছি। তখন এত মিডিয়া ছিল না। ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। যখন যে রকম পরিস্থিতি, সেখানেই মেকআপ, ড্রেস চেঞ্জ করে নিতাম। আমাদের ভিতটা পুরাতন। তাই এত বছর টিকে গেছি।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম