
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৬ এএম
অনাথ হয়ে গেল আরাধ্যা, জ্ঞান ফেরার পর মা-বাবাকেই খুঁজছে

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২১ এএম

আরও পড়ুন
৭ বছর বয়সী আরাধ্যা বিশ্বাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঈদের ছুটিতে মা-বাবার সঙ্গে যাচ্ছিল কক্সবাজার। আশা ছিল সমুদ্রে গোসল করবে মা-বাবার সঙ্গে। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সব কেড়ে নিল। তার স্থান হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস আর মা সাধনা রাণী চলে গেছেন পরপারে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে আরাধ্যা। তবে মা-বাবা যে আর বেঁচে নেই তা এখনো জানে না সে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই তাই মা-বাবাকেই খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্যা।
বুধবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। গুরুতর আহত হয় আরাধ্যা বিশ্বাসসহ আরও তিনজন। ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বেঁচে যাওয়া মাইক্রোবাসের সহকারী চালক আল-আমিন বলেন, আরাধ্যাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে। ডাক্তার বলেছেন ঝুঁকিমুক্ত নয় আরাধ্যা।
একমাত্র মেয়ে আরাধ্যা, স্ত্রী সাধনা রানীসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন দিলীপ কুমার (৪২)। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও আনন্দের সেই যাত্রা থমকে যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায়। সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দিলীপ কুমার, তার স্ত্রী সাধনা রানীসহ ১০ জনের। যার ফলে অনাথ হয়ে গেল আরাধ্যা।