
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৬ এএম
শহিদ সোহাগের বোন জানে না, তার ভাই বেঁচে নেই

শিপুফররাজী, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৬ পিএম

আরও পড়ুন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবার মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান, ৩০ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর অবসান হয় শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসন।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের নির্বিচার গুলিতে ঝরে যায় প্রায় দেড় সহস্রাধিক তাজা প্রাণ। আহত হন প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-জনতা। কিন্তু যাদের ত্যাগে এই ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে সেই শহিদদের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো শোকের ছায়া জুলাই বিপ্লবে শহিদ সোহাগের পরিবারে। শহিদ বীর সন্তানের স্মৃতি নিয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন তার বাবা-মা। তার শোকে স্মৃতিতে ডুবে আছেন পরিবারের সদস্যরা। সোহাগবিহীন ঈদের আনন্দ যেন নিরানন্দ হয়ে গেছে তাদের জীবনে। এবারের ঈদের আনন্দ তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। শহিদ সোহাগের সোহনা জানে না, তার ভাই যে বেঁচে নেই। ঈদে তার ভাই নতুন জামা এনে দেবে- সেই প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে।
চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে বাসিন্দা শহিদ সোহাগের বাবা সালাউদ্দিন ফরাজি পেশায় একজন কৃষক। জুলাই আন্দোলনে বড় সন্তান সোহাগকে হারিয়ে এখন এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে বাস করে চরফ্যাশন উপজেলার এই গ্রামে। তিনি সোহাগকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছেন। পরিবারের অভাব অনটন থাকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় একটা কোম্পানিতে চাকরি করতেন সোহাগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান অংশগ্রহণ করেন সোহাগ। ১৯ জুলাই২০২৪ শুক্রবার সাড়ে ১২টায় ঢাকার বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সোহাগ।
সোমবার ঈদের নামাজ শেষে নিজের ছেলের কবর জিয়ারত করে ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সালাউদ্দিন ফরাজি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, প্রতি বছর বাড়ির স্বজনদের সঙ্গে সোহাগ ঈদ উদযাপন হতো। সারা দিন প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে দিন কাটাত। বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর খেলাধুলা ও গল্প-গুজবে সময় কেটে যেত সোহাগের। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের সময় দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে মসজিদে আদায় করত। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ ঘুরে এলেও এবার সোহাগের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ঈদের নামাজ পড়া কিংবা ঈদের দিনে একসঙ্গে খাবার খাওয়া আর হয়ে ওঠেনি। আমার ছেলে গত ঈদে আমাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ করেছে, তার বোনকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়েছে, আজ বাড়িতে পুকুর পাড়ে কবর শুয়ে আছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আগে তাদের বিচার করতে হবে, পরে নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের শহিদ হওয়ার পর আমাদের খোঁজেও নেননি। সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকা পেয়েছি। তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি সহায়তা ও পাশাপাশি হত্যার বিচার আগে করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
শহিদ সোহাগের বোন সোহনা বলেন, সোহাগ ভাইয়া গত ঈদে আমাকে নতুন জামা কিনে দিয়েছে, এবার নতুন জামা কিনে দেয়নি। আমার ফোনও ধরছে না। ভাইয়া অফিসে আছে।