
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৪ এএম

নরসিংদী প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:২২ এএম
-67eb15b74b382.jpg)
নরসিংদীর পলাশে চাঁদা না দেওয়ায় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃত্বরা। এসময় তাদের বাঁচাতে গেলে মা ও বাবাকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে দুর্বৃত্তরা। মুমুর্ষ অবস্থায় দুই ভাইকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে আনার পর সাকিব নামে ১ জনকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক। অপর ভাই রাকিবকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার রাত ৯টার দিকে পলাশ উপজেলার কর্তাতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সদর ফাঁড়ির পুলিশ সদর হাসাপাতাল পরিদর্শন করেন। তবে পলাশ থানার ওসি জানিয়েছেন,চোর সন্দেহে দুই জনকে গনপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহত সাকিব মিয়া (২০) ও তার সহদোর ভাই রাকিব পলাশের কর্তাতৈল গ্রামের আশ্রাফ উদ্দিনের ছেলে। আহত হয়েছেন নিহতদের পিতা আশ্রাফ উদ্দিন ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহত রাকিব ও তার পিতা আশ্রাফ উদ্দিন বিদেশে লোক পাঠাত। তাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের কাছে চাঁদা দাবী করে আসছিল। কিন্তু তারা চাঁদা দিতে রাজি হয়নি। এরই মধ্যে আজ সোমবার ঈদ উপলক্ষে সাকিব ও তার বন্ধুরা ঘুরতে বের হয়। তারা কর্তাতৈল এলাকায় বেড়াতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় দুর্বৃত্তরা সাকিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপাতে থাকে।
এই খবর পেয়ে তার ভাই রাকিব ও তার মা-বাবাসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় দুর্বৃত্তদের বাধা দিতে গেলে রাকিব ও তার মা-বাবাকে এলোপাথারী কুপাতে থাকে। তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুবৃত্বরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। মুমুর্ষ অবস্থায় রাকিব ও তার মা-বাবাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাকিব মারা যায়। তার মা-বাবাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহতের চাঁচি হাজেরা বেগম বলেন,এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত দীঘদিন ধরে চাঁদা চেয়ে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় আজকে ঈদের দিন ঘুরতে গেলে সন্ত্রাসীরা সাকিব ও রাকিবকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
পলাশ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মনির হোসেন বলেন,চোর সন্দেহে পলাশের বাঘদি গ্রামের লোকজন সকালে একজনকে গনধোলাই দিয়েছে। পরে রাতেও চোর সন্দেহে কয়েকজনকে গনধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর চিকিৎসক ১ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ৩ জনকে ঢাকায় পাঠায়। সেখানে নেওয়ার পর কেউ মারা গেছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।