
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা
‘চোখের সামনে বাবুল আমার ছেলের বউকে জাপটে ধরেছে’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম
-67ea829f81a6e.jpg)
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী আদালতে গ্রহণের আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সদর থানা সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছে।
ভুক্তভোগী নারীর শাশুড়ি বলেন, আমার চোখের সামনে আমার ছেলের বউকে জাপটে ধরেছে। আমরা কিভাবে সহ্য করি?
ভুক্তভোগী নারীর মা বলেন, আমার মেয়ে অসহায়। তার বাবা নেই, ভাই নেই। বাবুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এখন তো ঘরছাড়া করেছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি একজন সাধারণ গৃহবধূ। বাবুল হাওলাদার আমাকে অনেকদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিল। আমি রাজি না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কাজ করেছে। এখন আমি স্বামী-সন্তানসহ ঘরছাড়া। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. বাবুল হাওলাদারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগীর বসতঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী বাধা দিলে তার শাশুড়ি ও মা এগিয়ে আসেন, তখন তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
পরে রাত ৮টার দিকে তারা আবারও ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয় এবং আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৯০ হাজার টাকা লুট করা হয়। ভুক্তভোগীর পোলট্রি ফার্ম থেকে ৯৫টি মুরগি নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আতঙ্কে হাসপাতালে যেতে পারেননি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ১৬ মার্চ তিনি পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা এজাহারে আসামিরা হলেন- মো. বাবুল হাওলাদার (৩৮), মো. কাওছার হাওলাদার (৩০), রবিউল সিকদার রিপনসহ (৩২) অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল হাওলাদার এক সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত সহকারী কাম ড্রাইভার ছিলেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুই বছর আগে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরখাস্ত হলে অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। কিন্তু ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি হঠাৎ করেই রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং সুকৌশলে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করেন।
স্থানীয়রা জানান, বাবুল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে নারীদের উত্যক্ত করা, কুপ্রস্তাব দেওয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজিসহ নানা অপরাধ করে আসছেন।
ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিলন মৃধা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাট করেছে এখন আবার বিএনপির ট্যাগ লাগিয়ে যত ধরনের অপরাধ আছে সবাই চালিয়ে যাচ্ছে। দল থেকে প্রত্যাহারের দাবি এই নেতার।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, দলের পরিচয়ে যে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী নারী প্রচলিত আইনে আদালতে মামলা করেছেন, সে অনুযায়ী আদালত ব্যবস্থা নেবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে এজাহার নিয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাবুল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি নিজের মতো দেখছি।