
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১২ পিএম
ঈদের নামাজের সময় বড় ছুরি দিয়ে ইমামকে হত্যাচেষ্টা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৪:৪৫ পিএম

বরগুনার তালতলীতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় ইমামকে বড় ছুরি দিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা বড় ছুরিসহ মাসুম নামে এক যুবক আটক করে তালতলী থানা পুলিশকে সোপর্দ করেছে।
সোমবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলা শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের সিকদার বাড়ি মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।
মাসুম (১৯) উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের আলীরবন্দর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। মাসুম ওই মসজিদের সাবেক ইমাম।
মাসুম বলেন, তিনি আগে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। গতবছর কুরবানি ঈদের সময় কুয়াকাটার একটা আবাসিক হোটেলে প্রেমিকাকে নিয়ে যাই। এরপর টাকা আনার জন্য আমার বন্ধু একই গ্রামের ইব্রাহিমের পুত্র ইমরানের কাছে প্রেমিকাকে রেখে আসি। এই সুযোগে ইমরান আমার প্রেমিকাকে বেইজ্জতি করেন। তার প্রেমিকা না বললেও আমি সেটা জানতে পারি এবং আমার ঘটনাটি জানাজানি হলে আমি এলাকা ছেড়ে ঢাকা গিয়ে প্রতিশোধের নেশার অপেক্ষায় থাকি। এক হাজার টাকা দিয়ে এই ছুরিটি তৈরি করে নিয়ে আসি। ইমরানের সন্ধান পেয়ে ঈদের দিন লোক সম্মুখে তার ওপর আক্রমণ করি।
মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন বলেন, নামাজের দ্বিতীয় রাকাতের সময় হামলাকারী নামাজ ছেড়ে তার সাথে থাকা একটি কার্টুন থেকে আনুমানিক দুই ফুট লম্বা একটি ছুরি বের করে ইমামকে মারার জন্য চেষ্টা করলে আমি তাকে ঝাপটে ধরি। এরপর মসজিদের মুসল্লিরা তাকে ধরে আটকে রাখে থানা পুলিশকে খবর দেই। এ সময় জানতে পেরেছি ইমামের সঙ্গে ওই যুবকের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে।
সিকদার বাড়ি মসজিদের ইমাম ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, কেওড়া বুনিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সময় মাসুম তার মোবাইল চুরি করেছিল। এ ঘটনায় তিনি তাকে অপমান করায় তার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন।
তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল জানিয়েছেন, সংবাদ শুনে পুলিশ গিয়ে মাসুমকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনা এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।