
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৪ এএম
আশাশুনিতে পাউবোর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৩:৩৪ পিএম

সবার মনে ঈদের খুশি। নামাজ শেষ করে বাড়িতে গিয়ে সবাই নিচ্ছে বিশ্রাম। অনেকে যাচ্ছে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। এমন সময় মসজিদের মাইকে খবর এলো, বেড়িবাঁধ ভাঙনের। দ্রুত সবাইকে সেখানে যাওয়ার জন্য বলা হলো। খবর পেয়ে গ্রামবাসী গিয়ে দেখল বেড়িবাঁধের দেড়শ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুতই বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করে দিয়েছে তারা।
সোমবার ঈদের দিন সকালে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের বাসার কাছের প্রায় দেড়শ ফুট এলাকার বেড়িবাঁধ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বেড়িবাঁধে ভাঙনের জেরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিছট গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, সকালে আমরা সবাই ঈদের নামাজ আদায় ব্যস্ত ছিলাম। নামাজ শেষে জানতে পারলাম আব্দুর রহিম সরদারের চিংড়ি ঘরের বাসার কাছ থেকে প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি গ্রামের মসজিদের মাইকে জানানো হয়। দ্রুত লোকজনকে ভাঙন পয়েন্টে যেতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভাঙন পয়েন্টে দ্রুত একটি বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে দুপুরের জোয়ারে বিছট গ্রামসহ আশেপাশের সাত থেকে আটটি গ্রাম খোলপেটুয়া নদীর পানিতে প্লাবিত হবে।
আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি ছুটে যাই। বেড়িবাঁধের প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবরে আমরা সেখানে লোক পাঠিয়েছি। স্থানীয় গ্রামবাসী সেখানে কাজ করছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।