
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম
টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাসহ আটক ১৪

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম

আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে উপজেলার গদার বাজার এলাকায় হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় ১৫টি টমটম ও একটি প্রাইভেটকার। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনী। আটক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধুসহ ১৪ জনকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সড়কে গদার বাজার নামক স্থানের একটি অংশে কয়েক মাস আগে বিনা লাভের বাজার খুলেন বিএনপি নেতা মধু। এর আগে ওই স্থানে টমটম চালকদের স্ট্যান্ড ছিল। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বিনা লাভের বাজার পরিদর্শনে আসেন। এ সময় বাজারের সামনে টমটম পার্কিং করা দেখে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। টমটম চালকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় টমটম চালকদের হয়ে কথা বলেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আনার মেম্বার। একপর্যায়ে ওই ইউপি সদস্যের সঙ্গে সাবেক মেয়র ও তার লোকজনের বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মধুর লোকজন ইউপি সদস্যসহ টমটম চালকদের ওপর হামলা চালায়। ভাঙচুর করে ১৫ টি টমটম। এরপর শহরের ভানুগাছ সড়কে সাবেক মেয়রের লোকজন সাগর নামে এক পরিবহণ শ্রমিক নেতার প্রাইভেট কারও ভাঙচুর করে।
বিষয়টি শুনে পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়। পরে গ্রামটির মানুষেরা লাঠিসোটা নিয়ে শহরের দিকে আসতে থাকে। তারা মিছিল নিয়ে মধুর বাসায় আক্রমণের চেষ্টা করে।
ওই সময় শহরের চৌমুহনাতে অবস্থান নিয়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি করতে থাকে। অপর দিকে সাবেক মেয়রের লোকজনও শহরের স্টেশন রোড থেকে গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ সরে গেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যা চলে রাত ২টা পর্যন্ত। এতে উভয় পক্ষে ৩৯ জন আহত হয়।
এ সময় শহরের বিভিন্ন দোকানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যান। পরে রাত ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ সময় মধুর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। আটক করে মধু, তার ছেলে সুমন, ভাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম আহমদ, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আলকাছ মিয়াসহ ১৩ জনকে। পরে তাদের পুলিশে দেয় সেনাবাহিনী। একই রাতে সেনাবাহিনীর পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আনার মেম্বারের ছেলেকে আটক করে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি আনিসুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মোট ১৪ জনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, শহরে টমটম চালক, গ্রামবাসী ও সাবেক মেয়রের লোকজনের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে তাতে অনেক লোকজন হতাহত হতে পারতো। পুলিশ যখন সংঘর্ষ থামাতে পার ছিল না তখন সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়।