
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫০ এএম
কনেপক্ষের দাবি ২ কোটি টাকা, দর-কষাকষিতে ২ লাখ মোহরানায় ব্যাঙের বিয়ে

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম

আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নে রোববার দুপুরে ব্যাঙের ব্যতিক্রমী এক বিয়ের আয়োজন করা হয়। বৃষ্টির আশায় স্থানীয়রা এ আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কনে পক্ষ ২ কোটি টাকা মোহরানার দাবি জানালেও দর-কষাকষির পর সেটি ২ লাখে এসে চূড়ান্ত হয়।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট হন এবং বৃষ্টি হয়। এই ঐতিহ্য বহু পুরনো, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মিজান শাহ বলেন, আমাদের বাপ-দাদার সময়েও এটি হতো, আমরা এখনও বিশ্বাস করি যে ব্যাঙের বিয়ের পর বৃষ্টি নামবে।
কনের বাড়ির আঙিনায় কলা গাছ দিয়ে তৈরি করা হয় বিয়ের গেট, সাজানো হয় রঙিন কাগজ দিয়ে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে চলে নাচ-গান। বর ও কনে পক্ষের লোকজন একত্রে বৃষ্টির গান গেয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই মিলে এই আয়োজন করেন, যা কেবল একটি রীতি নয় বরং ঐতিহ্যের প্রতীক বলে মনে করেন স্থানীয় শিক্ষক অজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘এটি সম্মিলিত আশার প্রকাশ। পানির সংকট দেখা দিলে সবাই মিলে এ ধরনের আয়োজন করে থাকি।’
ব্যাঙের এই ব্যতিক্রমী বিয়ে দেখতে শুধু স্থানীয়রাই নয়, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় শিক্ষক অজিত কুমার পাল বলেন, ‘এটা শুধু একটি রীতি নয়, আমাদের ঐতিহ্য। চৈত্র মাসে যখন পানির সংকট দেখা দেয়, তখন গ্রামের সবাই মিলে বৃষ্টির আশায় এই আয়োজন করে। এটি মূলত সম্মিলিত আশার প্রকাশ।’
নদী ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন তরী বাংলাদেশের নাসিরনগর শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মাহমুদ বলেন, জলাধার ভরাট হচ্ছে, বন নিধন হচ্ছে, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে পানির তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ মনে করে ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে। এজন্য তারা এই আয়োজন করেছে।
নাসিরনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, আমরা স্থানীয়দের পাশে আছি। দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জানানো হবে।
গ্রামবাসীদের প্রত্যাশা, এই ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আয়োজন প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নিয়ে আসবে।