
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম
হরিশ্চর হাই স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনীকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম

কুমিল্লার লালমাইয়ে হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনীকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের চতুর্থ পুনর্মিলনীকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আয়োজনের সব প্রস্তুতির কাজ চলছে হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠান সামনে রেখে আবেগাপ্লুত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। চলছে প্রস্তুতির কর্মব্যস্ততা।
‘নীড়ে ফেরা স্মৃতির টানে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’- এই স্লোগানে আগামী ২ এপ্রিল হাজারো প্রাণের উল্লাসে হবে নবীন প্রবীণদের মিলনমেলা। সকাল ৮টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু করে শেষ হবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্যে দিয়ে।
ডাকাতিয়া নদীর কোল ঘেঁষে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে পথচলা শুরু করে ২০২৫ সালেও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৭৬ বছরের এই বিদ্যাপীঠ। আপন আলোয় আলোকিত আজ উপজেলায়, জেলায় ও বিশ্ব মাঝে। ১৯৫২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও অর্জনের পথচলার শুভ সূচনা হয়। ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা বোর্ডে বাণিজ্য বিভাগে মেধাতালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করার পর থেকে এ বিদ্যালয়ে সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুলে প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্বর্গীয় বাবু মহিম চন্দ্র সাহা। পরবর্তীতে মকবুল আহমেদ বিএসসি, বিটি ১৯৫০ সালে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুলে যে মশাল প্রজ্বলিত করেছেন তা আজও স্ব-মহিমায় দীপ্তিমান।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মরহুম মকবুল স্যারের লেখা বই থেকে জানা যায়, খলিলপুর গ্রামের বাবু ভগবান চন্দ্র সাহা ও বাবু ঈশ্বর চন্দ্র সাহা ৩০ শতাংশ জমি দান করায় এই জমির উপর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে একটি মাইনর স্কুল স্থাপিত হয় এবং নামকরণ করা হয় হরিশ্চর মধ্য ইংরেজি স্কুল। অতঃপর ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভূমির পরিমাণ ৩.৫১ একর। হরিশ্চর নামটি প্রসিদ্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল। যুগ যুগ ধরে সাফল্যের দ্যুতি ছড়িয়েছে সুদূর মার্কিন মুল্লুকের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ও হালের ইনটেল কর্পোরেশন পর্যন্ত।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ঘিরে কথা হয় উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে। তিনি জানান, তিনিও এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। শিক্ষা ও চাকরি জীবনসহ দীর্ঘ বছর ধরে হরিশ্চর স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন মায়ার বাঁধনে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। চতুর্থ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ভালোভাবে শেষ করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।