
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪৬ এএম
ঈদের আগে চড়া সবজির বাজার, দাম বেড়েছে মাছ-মাংসেরও

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০১:২৪ পিএম

আরও পড়ুন
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। মুসলমান ধর্মাবলম্ভীদের উৎসবকে ঘিরে বাজারে ভিড় করছে মানুষেরা। যার ব্যতিক্রম নয় শরীয়তপুরের ডামুড্যায়ও। ঈদকে সামনে রেখে উপজেলাটিতে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রতিটি সবজিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। দাম বেড়েছে মাছ ও মাংসের।
উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে। বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটাই কমে। শীত-গ্রীষ্মের মাঝামাঝি মৌসুম হওয়ায় সবজির দাম বেশি বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা।
ডামুড্যা কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করল্লা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও সজনে ডাটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
জাতভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ২৫ থেকে ৩৫ টাকা ও শসা মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা ও দেশি রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। আদার দাম রয়েছে প্রায় আগের মতোই। জাতভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।
ডামুড্যা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোস্তফা সিকদার বলেন, এখন বাজারে শীতের সবজিও তেমন নেই। আবার গরমের সবজির মৌসুম কেবল শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী এমন অবস্থায় সবসময়ই সবজির দাম বেশি থাকে। মৌসুমি সবজি উঠতে শুরু করলে দাম আবার কমে আসবে।
ঈদের আগে ছুটির দিনে সবজি কিনতে এসে হতাশ ক্রেতারা। তারা বলছেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় সবজির দাম অনেকটাই কম থাকলেও শেষের দিকে রীতিমতো আগুন দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে মুরগির মাংসের। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা থাকলেও, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিদরে।
বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগিও। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা।
বয়লার মুরগি বিক্রেতা খলিলুর রহমান বলেন, মুরগি সরবরাহ বা পরিবহণ ব্যবস্থায় কোনো সংকট নেই। কিন্তু ঈদের আগে বাজারে অনেক বাড়তি টাকা দিতে হয়। কর্মচারীদের ঈদ বোনাস, বাজারের তোলা টাকা, আড়তের ভাড়া— সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই ঈদের আগে দাম কিছুটা বাড়াতে হয়।
আরেক মুরগি বিক্রেতা সবুজ হাওলাদার বলেন, ‘ঈদের এই কয়দিন মুরগির দাম একটু বাড়তি থাকবে। এখন যাকে দিয়েই কাজ করাবেন তাকেই ঈদের বকশিস দিতে হবে। সব মিলিয়ে লোকসান এড়াতে মুরগির দাম একটু বাড়াতে হয়েছে।’
স্থিতিশীল আছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। স্থিতিশীল রয়েছে ডিমের দামও।
মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও মাছের বাজার চড়া। বেড়েছে প্রতিটি মাছের দামই। সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। এক কেজির ওপরে ওজন হলে কেজিপ্রতি দাম পড়ে সাড়ে তিন হাজারের মতো। আর ছোট সাইজের ইলিশের কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।
মাছ বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ একেবারেই কম। ছোট ইলিশ কিছুটা পাওয়া গেলেও বড় ইলিশ একেবারেই নেই। ঈদের আগে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।
চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে। এক সপ্তাহ আগে গলদা চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে অসাধু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’