
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম
মহেশপুরে সালিশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

ঝিনাইদহের মহেশপুরে গাছের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জাফর হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে বিচার সালিশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের জীবননগরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাফর হোসেন ওই গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলমগীর বাদী হয়ে সামান্ত চারাতলাপাড়ার খেলাফত আলীর ছেলে আব্দুল আলীকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উলেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের নামে মামলা করেছেন।
নিহতের স্ত্রী জানান, মামলার ৪নং আসামি আব্বাস আলীর লাগানো গাছ জমি মাপামাপির পর জাফর হোসেনের অংশে চলে আসে। এরপর আট বছর আগে জাফর হোসেন ওই গাছ কেটে বিক্রি করেন। দীর্ঘ বার বছর পর ঢাকা থেকে সপ্তাহ খানেক আগে সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন জাফর। ঘটনার দিন রাতে সালিশ বিচারের নামে বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যান মামলার আসামিরা। বিচার সালিশের একপর্যায়ে জাফর হোসেনকে মারধর করা হলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান।
এদিকে নিহত জাফরকে নিজেদের দলীয় কর্মী দাবি করে শুক্রবার বিকালে সামন্তায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জাফর হোসেনের খুনিদের জামায়াত নেতাকর্মী দাবি করে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একই সময়ে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দায় অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের উপজেলা আমির ফারুক আহম্মেদ বলেন, জীবননগর পাড়ার আব্বাস আলী ও তার খালতো ভাই জাফর হোসেনের সঙ্গে পূর্বের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বাসানো হয়। তাদের দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে জাফর হোসেন মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। জাফর আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
মহেশপুর থানার ওসি ফয়েজ উদ্দিন মৃধা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।