
প্রিন্ট: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম
৮৭ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিতে ঠিকাদারকে মারধর, আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৮ পিএম
-67dd7c2fb50be.jpg)
আরও পড়ুন
সিলেট নগরীতে ৮৭ কোটি টাকার কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা ও ঠিকাদারকে মারধর করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নগরীর সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. জিয়াউল হক।
মামলার আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন, একই থানার আনোয়ারপুর গ্রামের জেনসন দাস (২৬), সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ক্রিসটাল রোজ হোটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিশু দাস (৫০), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পারভেজ (৫৫) ও সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার জয়দেব পার্থ (৫৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের এপ্রিলে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের উন্নয়নকাজে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বদরুল ইকবাল লিমিটেড। সেই কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয় শফিকুল ইসলামকে। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসাইন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাজটিতে তাকে অংশীদার করতে চাপ দেন। বাধ্য হয়ে শফিক তাকে অংশীদার করেন। এর জেরে বুধবার দুপুরের দিকে আজাদ মোবাইলে কল করে শফিকুলকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার ক্রিস্টাল রোজ হোটেলে আসতে বলেন।
সেখানে গেলে আজাদ হোসেন অংশীদারিত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য শফিককে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দেন। এতে শফিক রাজি না হলে তাকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় শফিকুলের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, তখন শফিকুলকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ প্রকাশ করে যুগান্তর।
মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৮৭ কোটি টাকার কাজটি আমি মো. বদরুল ইকবালের কাছ থেকে পেয়েছি। বদরুল ইকবাল দেশের বাইরে থাকায় আজাদ এমনটি করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর গা-ঢাকা দিয়েছেন আজাদ হোসেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার অন্য আসামি জেনসন দাসের দাবি, কাজটি মূলত পেয়েছিলেন মো. বদরুল ইকবাল লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বদরুল ইকবালের কাছ থেকে কাজটি আনেন আজাদ হোসেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই কাজ মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি পেয়েছেন বলে মামলায় দাবি করছেন।