
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪৫ এএম
মহেশখালীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে লবণ চাষি নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১০:১৪ পিএম

আরও পড়ুন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোহাম্মদ শফি আলম (৪৫) নামে এক লবণ চাষি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের পদ্মবর চঁড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মানবেন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালারমারছড়া এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ঘটনার দিন কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধাওয়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং সন্দেহজনকভাবে লবণ চাষি শফিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি বুকে লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই মুহাম্মদ রাসেল বলেন, আমি ও আমার ভাই লবণ মাঠে যাচ্ছিলাম। তখন দেখি কোস্টগার্ড সদস্যরা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করছে। আমরা নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আমার ভাই পদ্মবর চঁড়ায় পৌঁছাতেই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে টার্গেট করে গুলি চালায়। কোনো কারণ ছাড়াই আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহতের বড় বোন ছেনোয়ারা বেগম বলেন, কিছু সন্ত্রাসী আমাদের সহায়-সম্পত্তি লুটে নেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করল। আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।
প্রতিবেশী মুহাম্মদ হামিদ বলেন, শফি সহজ সরল একজন লবণ চাষি ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। অথচ সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করল। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক।
স্থানীয় এক লবণ চাষি বলেন, মহেশখালীর অনেক জায়গায় সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষ দিন দিন আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে। লবণ চাষিরা মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছে।
মহেশখালী সার্কেলের এএসপি মানবেন্দ্র সরকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আরও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যারা এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।