Logo
Logo
×

সারাদেশ

১০ বছর ধরে অপেক্ষায় গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা সজীবের মা

Icon

মো. আবু তাহের, দাগনভূঞা (ফেনী)

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

১০ বছর ধরে অপেক্ষায় গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা সজীবের মা

গুম হওয়া সজীবের মা রেনু রহমান গুম হওয়া ছেলে সজীবের আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। স্ত্রীও অপেক্ষায় আছেন সজীব এসে সন্তান রিজোয়ানকে ডেকে মাত করবেন পরিবারের মধ্যমণি হিসেবে; কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

ফ্যাসিজমের কবর রচিত হলেও ছাত্রদলের নেতা সাইফুর রহমান সজীবের খোঁজ মিলছে না। ঢাকার গুলশান থানার ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান সজীবকে (৪০) ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুড়িল চৌরাস্তা থেকে র‌্যাব-১ এর গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানসহ গুলশানের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সাবেক এই ছাত্রদল নেতা। গুম হওয়া সাইফুর রহমান সজীবের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের সুলতান সুবেদার বাড়ি।

ওই দিন দুপুরের পর থেকে সফিকুর রহমানের ছেলে সজীব আর বাড়ি ফেরেননি। বাবা শফিকুর রহমান বুঝতে পারেননি ছেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে। ভেবেছিলেন সরকারবিরোধী রাজনীতি করা ছেলের নিয়তিতে জেল নির্ধারিত; কিন্তু থানা, আদালত, কারাগার কোথাও সজীবের সন্ধান না পেয়ে বুঝতে পারেন, তার আদরের সন্তানকে গুম করা হয়েছে।

ছেলেকে ফিরে পেতে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, ডিজিএফআই, আন্তর্জাতিক গুম কমিশনের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে বছরের পর বছর ঘুরেছেন শফিকুর রহমান; কিন্তু পাননি নিখোঁজ ছেলের সন্ধান।

সজীবের মা রেনু রহমান ১০ বছর পরও রাত জেগে থাকেন ছেলের অপেক্ষায়। দরজায় শব্দ হলে ভাবেন, এই বুঝি ছেলে এলো! সজীব ফিরে এসে যদি মাকে খুঁজে না পান– এই শঙ্কায় ভাড়া বাসা বদল করেননি তারা।

সজীবের বাবা শফিকুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সেদিন সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে কুড়িল চৌরাস্তার দিকে গিয়েছিলেন সজীব। র‌্যাব-১ এর একটি গাড়িতে করে আসা ব্যক্তিরা সজীবকে গাড়িতে তোলেন। ওই দিন সজীবকে তুলে নেওয়ার কারণ জানতে পারেননি। পরদিন র‌্যাবের এক সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারেন তাকে র‌্যাব-১ এর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে ওই র‌্যাবের সদস্য জানান তার মোবাইলে বিএনপি এবং তৎকালীন সরকারবিরোধীদের অনেকের মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে; শুধু এই অভিযোগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ বা মামলাও ছিল না। কিন্তু র‌্যাব, ডিবিসহ পুলিশের সব ইউনিট সজীবকে আটকের কথা অস্বীকার করে। সেখানে না পেয়ে গুলশান থানায় জিডি করেন শফিকুর রহমান।

এ ঘটনায় "মায়ের ডাক" সংগঠনের পক্ষ হতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনেও অংশগ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ কখনই সহায়তা করেনি। উল্টো হয়রানি করেছে। দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ইউনূস সরকারের গুম কমিশনেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

গুম হওয়া সজীবের স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়ি থাকলেও ১২ বছরের সন্তান রেজোয়ান এখনো দেখেনি তার বাবার চেহারা। সজীবের আরও চার বোন থাকলেও একজন পানিতে ডুবে মারা যায়।

দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়নের যুবনেতা নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের সজীব ঢাকায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিগত সময়ে এরকম অসংখ্য সজীবকে গুম করেছেন। আমরা সজীবসহ এখনো যারা নিখোঁজ আছে তাদের সবার সন্ধান চাই।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রনেতা মতিউর রহমান চৌধুরী পলাশ বলেন, আমাদের এলাকার ছাত্রদল নেতা সজীব গুম হবার সাত দিন আগেও তার খোঁজখবর নিয়েছিলাম। আমার এলাকার ছোট ভাই হিসেবে আমি তার সন্ধান চাই।

Jamuna Electronics

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম