দুদক চেয়ারম্যান
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেলে দুদকের কাজ আরও বাড়বে

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৪ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, দুদক এখনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেলে দুদকের কাজের মাত্রা আরও বাড়বে। হয়তো শিগগিরই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
পাবনা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি
প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় এ গণশুনানির আয়োজন করে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক
মামলার পরিণতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মোমেন বলেন, কোনটা রাজনৈতিক
মামলা বা ‘নিপিড়নমূলক, নির্যাতনমূলক তা তো আদালতের বিষয়। দুদক তার বিধি অনুযায়ী কাজ
করছে।
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, নিপীড়নমূলক
বা শোষণমূলক মামলা যেগুলো হয়েছে তাদের এখন পরিণতি কি? আমার মনে হয়, এগুলো নতুন করে
ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। তবে আমরা যদি সেই ধারাটা অব্যাহত রাখি তাহলে আমাদেরও তো সেই
একই রকম পরিণতি হবে।
দুদক কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে-
এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এখনো দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। সাংবিধানিক
প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেলে দুদকের কাজের মাত্রা আরও বাড়বে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ
রয়েছে। হয়তো শিগগিরই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে।
তিনি বলেন, এখন প্রশ্ন হলো আমরা স্বাধীনভাবে
কাজ করতে পারবো কিনা? কেননা, আমাদের সব ধরনের স্বাধীনতারই তো একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আমাদের যতটুকু স্বাধীনতা রয়েছে, এর মধ্যদিয়েই যতটা ভালোভাবে এবং যতটা নিরপেক্ষভাবে
কাজ করা যায়, তা আমরা চেষ্টা করছি।
পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল
ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল অব. হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
অন্যদের মধ্যে দুদকের রাজশাহী রেঞ্জের
পরিচালক কামরুল আহসান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মহাপরিচালক আখতার হোসেন, পাবনার পুলিশ
সুপার মোরতোজা আলী খান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. মনোয়ারুল আজীজ বক্তব্য
দেন।
অনুষ্ঠানে পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি
আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা
শেষে অভিযোগকারীদের সরাসরি গণশুনানির কার্যক্রম শুরু হয়।
গণশুনানিতে ১৫৭টি অভিযোগ জমা পড়লেও দুদক তফসিলভুক্ত ৫৭টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গণশুনানি করে। এতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানীর শিকার বা সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ তুলেন ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেই অভিযোগের জবাব দেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
এ সময় টিসিবির লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার
নামে আর্থিক লেনদেন, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানিসহ
ঘুসের অভিযোগ, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ, ফারইস্ট ইসলামি ইনস্যুরেন্স,
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন অফিসের বিরুদ্ধে সেবা গ্রহিতারা সরাসরি
নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করেন।