ঢালাইয়ের ২ দিন পরেই সড়কে ফাটল

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৪২ এএম

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কটির আরসিসি (রেইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) ঢালাই হয়েছে দুদিন আগে। এরই মধ্যে ঢালাইয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো ঢাকতে দেওয়া হয়েছে সিমেন্টের আস্তরণ। তবে ফাটলগুলোকে সমস্যা বলে মনে করছেন না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
১৮ ফুট প্রশস্ত ও এক হাজার ৪৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটির
উন্নয়ন কাজের জন্য ২০২৪ সালে দরপত্র আহবান করে চান্দিনা পৌরসভা। এতে পৌরসভা
কর্তৃপক্ষ বাদে অর্থায়ন করে এডিবি। দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার কাজটি
পান সুমি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর সড়কটির কাজ
শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার
কার্যালয়ের যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিতে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। মাত্র দুদিন
আগে রাস্তাটির ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে পানি ও কচুরিপানা দিয়ে রাস্তাটি ঢেকে
রাখা হয়েছে। এরইমধ্যে ঢালাইয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেসব ফাটল বন্ধে
দেওয়া হচ্ছে সিমেন্টের আস্তরণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের
সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুতই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা
তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন,
‘নতুন রাস্তা এখনই ফেটে গেছে।
এ রাস্তা বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয় না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চান্দিনা বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ রাস্তার সঙ্গেই আমার গোডাউন রয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে ১০ টনের কাভার্ডভ্যানও আসে। ভারি যানবাহনের চাপ রাস্তা নিতে পারবে না। ’
ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক
সেলিম বলেন, ‘ঢালাই যখন পানি টান দেয় তখন চুলের মতো ফাটল
দেখা দেয়। এটা কোনো ব্যাপার না। এগুলো সিমেন্টের আস্তরণ দিলেই ঠিক হয়ে যায়।’
এ বিষয়ে চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাছান বলেন, ‘ফাটলগুলো শুধু ওপরের
অংশের। সিমেন্ট পানির আস্তরণ দিলেই এসব ফাটল ঠিক হয়ে যাবে। সড়কটি ২৫ থেকে ২৬ বছরেও
কিছু হবে না।’
পৌরসভার প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, ‘ফাটল আছে সঠিক। কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ করতে হবে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি মনিটরিং করবে। বিল দেওয়ার আগে আমরা কাজ আদায় করে নেব।’