চরফ্যাশন বাস টার্মিনাল
সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদক ও জুয়ার আসর

শিপু ফরাজী, চরফ্যাশন
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম

ভোলার চরফ্যাশনে যানজট নিরসনে তিন একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় বাস টার্মিনাল। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এ টার্মিনাল বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। সেখানে থাকে না কোনো বাস। যান না থাকলেও সন্ধ্যা হলেই মুখর হয়ে ওঠে টার্মিনালটি। সন্ধ্যার পর পরই মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয় এটি। প্রকাশ্য বসে জুয়ার আসরও।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, যানজট নিরসনে পৌর সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে
তিন একর জমির ওপর ২০ কোটি টাকায় ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ
শুরু হয়ে, যার অর্থায়ন করে চরফ্যাশন পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে শেষ হয় টার্মিনালের নির্মাণ
কাজ। সাড়ে ৭ হাজার স্কয়ার ফুটের উন্নতমানের এ টার্মিনালে রয়েছে কাচে মোড়ানো তিনতলা
ভবন। বহুতল ভবনটিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার। রয়েছে রেস্টুরেন্ট, মসজিদ,
হলরুম, মিটিং রুম, চায়ের স্টল ও শৌচাগার। এ ছাড়া প্রত্যেক রুটের জন্য পৃথক টিকেট কাউন্টারের
ব্যবস্থাও রয়েছে।
নির্মাণকাজ শেষে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট থেকে টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে
বাস চলাচল শুরু করে। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মুখ থুবড়ে পড়েছে
টার্মিনালটি।
গত নভেম্বর থেকে টার্মিনাল কোনো বাস আসা যাওয়া করে না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে
এলেই নির্জন টার্মিনালে ভিড় জমায় যুবক-কিশোরসহ নানান শ্রেণিপেশার মানুষ। হয়ে ওঠে মাদকসেবীদের
অভয়ারণ্য। মোমের আলোতে জমে ওঠে জুয়ার আসর। জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আনাগোনায় সেখানে বেড়েছে
অপরাধ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। টার্মিনালে না থেকে যাত্রীর জন্য বাসগুলো যাচ্ছে
চরফ্যাশন পৌর সদরের বাজারে। এতে সেখানে লেগে থাকে যানজট।
বাস চালকদের দাবি, বাজারের ভেতরে একটি সিএনজি স্টেশন হওয়ায় টার্মিনালে
যায় না যাত্রীরা। এতে করে যাত্রী পাচ্ছেন না তারা। এ জন্যই তারা টার্মিনাল ছেড়ে আগের
মতো সদর বাজারে বাস রাখছে।
বাস মালিক সমিতির চরফ্যাশন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো সবুজ মিয়া বলেন,
‘তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সদর থেকে অটোরিকশা করে বাস টার্মিনাল
যেতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ৫০ টাকা বেশি গুনতে হয়। অটোরিকশার ভাড়া ও বাসের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের
বিপাকে পড়তে হয়। তাই সবদিক বিবেচনা করে আগের স্ট্যান্ডেই বাস রেখে সব রুটের বাস চলাচল
করছে।’
সম্প্রতি টার্মিনালটি ঘুরে দেখা যায়, ভবনটিতে থাকা আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে
যাচ্ছে। টার্মিনালের চারপাশসহ মূল ভবনের বেশ কিছু স্থান ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত
হয়ে গেছে। ভেতর বাহিরে জমে আছে ময়লারস্তূপ। টিকেট কাউন্টারগুলোতে জমেছে ধুলোরস্তূপ।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হাওলাদার জানান, বাস টার্মিনালটি দুই মাস যাবৎ
বন্ধ। সন্ধ্যা হলেই সেখানে বহিরাগত যুবকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। মোটরসাইকেলযোগে অনেক
যুবকরা এসে ভিড় জমান টার্মিনালে। স্থানীয় শিশু-কিশোররা উঁকিঝুঁকি দিলে মাদকসেবীদের
মারধরের শিকার হন অনেকেই।
সোহেল নামের আরেক বাসিন্দা জানান, রাতে হলে টার্মিনালের পরিত্যক্ত রুমে জলে মিটমিটে আলো। তামাক পোঁড়া গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ বাতাস। রাত হলেই হাঁকডাক দিয়ে বসে জুয়ার আসর ও মাদকের আখড়া। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে ক্ষণিকেই পালিয়ে যায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িরা।
বাস টার্মিনাল এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ার কথা স্বীকার করে চরফ্যাশন
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ওই এলাকায় পুলিশি
টহল জোরদার করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ‘গত
বছরে টার্মিনালটি পৌরসভা ইজারা দিয়েছে। ওই ইজারার মেয়াদ এখনও চলমান রয়েছে। যেহেতু বাসমালিকরা
তাদের নিজস্ব স্ট্যান্ডে বাস রেখে পরিচালনা করছেন সেহেতু পৌরসভার পক্ষ থেকে বাস মালিক
সমিতির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’